কাঁদানে গ্যাস এবং সাউন্ড বোমা নিক্ষেপ করেছে পবিত্র আল আকসা মসজিদ চত্বরে ফিলিস্তিনি প্রার্থনাকারীদের ওপর সোমবার সকালে ইসরাইলি পুলিশ রাবার বুলেট। এতে কয়েক শত মুসল্লি আহত হয়েছেন। দিনশেষে দখলীকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি জাতীয়তাবাদীদের পরিকল্পিত বার্ষিক র্যালি করার কথা রয়েছে। ওই র্যালিকে কেন্দ্র করে এই সহিংসতা ঘটেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালে এ দিনে পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরাইল। পরে তারা এর সম্প্রসারণ ঘটায়। দিনটিকে স্মরণ করতে প্রতিবছর ইহুদিরা জেরুজালেম ডে ফ্লাগ মার্চের আয়োজন করে থাকে। ইহুদি তরুণরা এদিনে ফিলিস্তিনের ওল্ড সিটি এবং পূর্ব জেরুজালেমে র্যালি করে। এর মধ্য দিয়ে তারা উস্কানি সৃষ্টি করে।

ফিলিস্তিনি রেডক্রস বলেছে, ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ২১৫ জন মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মধ্যে কমপক্ষে চার জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফিলিস্তিনি একজন চিকিৎসক আল জাজিরাকে বলেছেন, নামাজরত একজন মুসলিমের কাঁধে গুলি করা হয়েছে রাবার বুলেট দিয়ে। এ সময় আল আকসা মসজিদের ভিতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন ফিলিস্তিনি আবদুল্লাহ ইদ্রিস। তিনি বলেছেন, মসজিদ কমপ্লেক্স এ সময় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। তিনি আরো বলেন, নামাজে যাওয়া মানুষগুলো কাঁদানে গ্যাসের ঝাঁঝে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাচ্ছিলেন। একটু বাতাসের জন্য মসজিদের জানালাগুলো ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। আহতদের কাছে চিকিৎসকদের যেতে বাধা দেয়া হচ্ছিল। ইসলামিক ওয়াকফ-এর কর্মকর্তা শেখ রায়েদ দানা বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী তাকে প্রহার করেছে। তার ভাষায়, তারা আমাকে লাথি দিয়েছে। কিলঘুষি মেরে মেঝেতে ফেলে দেয়। আমি তাদেরকে পরিচয়পত্র দেখিয়েও রেহাই পাইনি। এরপর তারা আমাকে মসজিদ চত্বর থেকে বের করে দেয়।

মসজিদ চত্বরে ইসরাইলের এই দমনপীড়নকালে আহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের ৬ জন সাংবাদিক। তারা ঘটনার সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন আল আকসা মসজিদ চত্বরে। কিন্তু কাঁদানে গ্যাসের কারণে তারা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হন। তারা হলেন উসাইদ আমারনেহ, মোহাম্মদ সামরিন, লিওয়া আবু আরমিলা, ইতার আবু ঘারবিয়া, আহমেদ জারাদাত এবং রামি আল খতিব। ফাতিমা আল বাকরি নামে আরেকজন সাংবাদিককে ইসরাইলি বাহিনী শারীরিকভাবে অপদস্ত করেছে।

ওদিকে স্থানীয় সময় বিকাল তিনটায় ফিলিস্তিনের রেড ক্রস বলেছেন, কয়েক শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক আছেন। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫০ জনকে। এর আগে আল আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। বসতি স্থাপনকারীরা হলো ইহুদি।
