ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোন পথে পা বাড়াবেন তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে তিস্তার জট ছাড়াতে। হাসিনার দিল্লি সফরে মোদি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তাঁর ও হাসিনার আমলেই এই চুক্তি হবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে কীভাবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকে এ নিয়ে পথ খোঁজা শুরু হয়েছে। সুত্রের খবর মোদীর সামনে এখন তিনটি পথ রয়েছে। প্রথমত নদীর পানিকে যৌথ তালিকাভুক্ত করে কেন্দ্রের এখতিয়ার বাড়ানো। দ্বিতীয়ত, চুক্তিতে রাজি করানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযকে আরও বোঝানো। আর তৃতীয় ও শেষ পথটি হল, মমতাকে বুঝিয়েও কাজ না হলে একতরফা এগোনোর কথা ভাবা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একতরফা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও মত প্রকাশ না করা হলেও কয়েকজন নেতা ঘনিষ্ঠ আলোচনায় জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বার্থ দেখার বিষয়টিকে ভারত সরকার নিশ্চয়ই সে ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবে। তবে তিস্তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাকে আমল দিচ্ছে না। পররাষ্ট্র  মন্ত্রকের মুখপাত্র সাফ জানিয়েছেন, দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, সেটাই দিল্লির অবস্থান। তবে ভারত সরকার নদীর পানির বিষয়টিকে রাজ্য তালিকা থেকে যৌথ তালিকায় আনার কথা ভাবতে শুরু করেছে। অবশ্য এজন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে। গত বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় পাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান বলেছেন, নদী যৌথ তালিকায় এলে নানা রাজ্যের মধ্যে নানা মত এড়ানো যাবে। তবে এক্ষেত্রে তিনি তিস্তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। এ বছরের জানুয়ারি মাসেই ভারতের জলসম্পদ মন্ত্রী উমা ভারতী ‘পানি’কে যৌথ তালিকায় আনা নিয়ে রাজ্যগুলির মতামত জানতে চেয়েছিলেন। সেই সময়ই তিনি মানস-সঙ্কোশ-তিস্তা-গঙ্গা-মহানদী-গোদাবরীর সংযুক্তির একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথাও বলেছিলেন। এই প্রকল্প নিয়ে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের খুব একটা আপত্তি নেই বলে জানিযেছেন এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031