চট্টগ্রাম নগরী টানা বৃষ্টিতে আবারো ডুবতে বসেছে। টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নগরীর প্রায় সব এলাকাই এখন পানির নীচে। কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটুপানি। সারাশহরের নীচু এলাকা থৈ থৈ করছে পানি। রোববার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সোমবারেও তা অব্যাহত আছে। ভারী বৃষ্টির সাথে যোগ হয়েছে জোয়ারের পানি।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্মকর্তা শেখ হারুনুর রশীদ জানান, চট্টগ্রামে মাঝারী থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। তা থেমে থেমে অব্যাহত থাকবে। আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৪ ঘন্টায় ১৬৫ দশমিক ০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে কোথাও কোথাও পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।
সোমবার সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে জোয়ার শুরু হয়। বেলা ১টা ২৭ মিনিটে ভাটা শুরু হবে এবং রাত ৮টা ১৪ মিনিটে আবার জোয়ার শুরু হবে।
রোববার থেকে টানা বর্ষণে নগরীর পুরাতন চান্দগাঁও, মোহরা, রাস্তারমাথা, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, কাপাসগোলা, চকবাজার, কালামিয়া বাজার, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, সিডিএ এলাকা, ব্যাপারী পাড়া, শান্তিবাগ, রঙ্গি পাড়া, মহুরি পাড়া, ছোটপুল, বড়পোল, হালিশহর, পোর্ট কানেক্টিং রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর বেশ কিছু স্কুল অফিস ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি ঢুকে আটকা পড়ছে যানবাহন। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী ও কর্মস্থলে যাওয়া লোকজন। ঘরবাড়ি, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা এখন পানির নিচে। হাঁটু, কোমর ও বুক সমান পানিতে ভিজেই যাচ্ছেন কর্মস্থলে। সিডিএ আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় নীচতলার রুমে প্রায় কোমর সমান পানি।
পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গৃহস্থলির বিভিন্ন আসবাবপত্র, দোকানপত্রের মালামাল, ব্যবসায়িক স্থাপনাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি। পানির নিচে থাকায় জলমগ্ন এলাকার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ের কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ রয়েছে।
নগরীর আগ্রাবাদ এলাকায় সোমবার বিকেলে সরেজমিনে দেখতে গেলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরীতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা থাকলেও আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। চট্টগ্রাম শহর নয়, এ যেন সাগরে বাস করছি।
হালিশহর বড়পুল এলাকার বাসিন্দা নয়ন আলম বলেন, পানিতে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। ঘরের সব জিরিনষপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে দেশের বৃহৎ পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী আসাদগঞ্জ, চাক্তাই পানির নিচে অস্বাভাবিকভাবে তলিয়ে গেছে। সেখানে দোকান, গোডাউনে পানি প্রবেশের ফলে বিভিন্ন মজুদকৃত খাদ্য পণ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।
