বারবার অভিযোগ তুলেছেন যে তারা পূর্বাঞ্চলে গণহত্যা পরিচালনা করছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে । তবে রাশিয়ার দাবির জবাবে ইউক্রেন বরাবরই বলে আসছে, রুশ অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই। খবর বিবিসি।

রাশিয়ার সমর্থনে আট বছর আগে শুরু হওয়া যুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ডনবাসের এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপরও ডনবাস অঞ্চলের দুই-তৃতীয়াংশ ছিল ইউক্রেনের হাতে। বাকি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পরিচালনা করতো।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগেভাগে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুটো এলাকাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।রাশিয়া যদি এই দুটো বৃহৎ অঞ্চল জয় করতে পারে, তাহলে প্রেসিডেন্ট পুতিন দেখাতে পারবেন যে এই যুদ্ধ থেকে তিনি কিছু একটা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

রুশ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য স্পষ্ট, তিনি ২০১৪ সালে বিতর্কিত এক গণভোটের মাধ্যমে ক্রাইমিয়াকে যেভাবে রাশিয়ার অংশ করে নিয়েছেন। ডনবাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠিক একই কায়দায় পরবর্তী পদক্ষেপ হবে ডনবাসকে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত করে নেওয়া।

লুহানস্ককে রাশিয়ার পুতুল-নেতা এর মধ্যেই “অদূর ভবিষ্যতে” সেখানে গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে কথা বলেছেন, যদিও রণক্ষেত্রে এখনই এরকম একটি গণভোটের আয়োজন করা অসম্ভব হবে না।

লুহান্সক অঞ্চলে ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কয়েকটি শহরে রুশ সৈন্যরা পর্যায়ক্রমে আক্রমণ চালিয়েছে। তারা সেভেরোদোনেস্কের কাছে রুবিঝনি শহর দখল করে নেওয়ার দাবি করেছে। লিসিচান্সক ও পপাসনা শহরেও তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে।

ডনবাসের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান সেরহি হাইদাই মনে করেন, রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে লুহান্সকের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে যাওয়ার পথে তাদের সামনে যতো প্রতিবন্ধকতা পড়বে সেগুলোকে ধ্বংস করা। রুশ সৈন্যদের অগ্রসর হওয়ার আগেভাগে বেসামরিক লোকজন পূর্বাঞ্চলের অনেক শহর থেকে পালিয়ে যাচ্ছে।

ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলছে এসব শহর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রাশিয়া পশ্চিম দিকে তাদের বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে যারা দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ইজিওম শহরের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়াকে সড়কপথে তাদের রসদ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সাথে ইউক্রেনের সৈন্যরা যাতে পশ্চিম থেকে রেলপথ দিয়ে আসতে না পারে সেজন্যও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে হবে।

ইউক্রেনের সৈন্যদের চলাচল এবং ভারী যুদ্ধ-সামগ্রী বহনের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পরিবহন হচ্ছে রেল। এছাড়াও বেসামরিক লোকজন সবচেয়ে দ্রুত এই পথেই যুদ্ধ থেকে পালিয়ে যেতে পারে। রুশ বাহিনী যদি এই রেল নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে এই পথ ধরে তাদের সৈন্যরা রসদসহ অগ্রসর হতে পারবে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031