করোনা ভাইরাস সংক্রমণে পজেটিভ আসার পর গত সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। বৃটিশ নার্স মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং। মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তার ক্রমশ অবস্থার অবনতি হতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে জরুরি ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করে সন্তান ভূমিষ্ঠ করানো হয় তার। কিন্তু বাঁচতে পারলেন না মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং। বৃহস্পতিবার বৃটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভাল আছে মেরি আগিওয়া আগিয়াপোংয়ের সন্তান। লন্ডনের উত্তর-পশ্চিমে লুটন অ্যান্ড ডানস্টেবল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে কাজ করতেন মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং।
তার দেহে করোনার উপস্থিতি পাওয়ার পর ৭ই এপ্রিল তাকে হাসপাতালে
ভর্তি করানো হয়। বুধবার বেডফোর্ডশায়ার হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট
নিশ্চিত করে বলেছে, গত রোববার ২৮ বছর বয়সী ওই নার্স মারা গেছেন। তিনি ওই
হাসপাতালে ৫ বছর ধরে চাকরি করছিলেন। বিবিসিকে বৃহস্পতিবার দেয়া এক
সাক্ষাতকারে বৃটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, তাকে নিয়ে
কমপক্ষে ২৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনা ভাইরাসে মারা গেলেন। বৃটিশ সরকারের
তথ্যমতে, বৃটেনে করোনা ভাইরাসে মারা গেছেন কমপক্ষে ১৩,৭০০ মানুষ। আক্রান্ত
হয়েছেন কমপক্ষে এক লাখ।
বেডফোর্ডশায়ার হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন
ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কাটার গভীর দুঃখের সঙ্গে মেরি
আগিওয়া আগিয়াপোং-এর মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার হাসপাতালে
মেরি ৫ বছর ধরে কাজ করছিলেন। এ সময়ে তিনি উঁচু মূল্যবোধ পোষণ করতেন। টিমের
সব সদস্যের প্রতি ছিল তার শ্রদ্ধা, ভালবাসা। তিনি একজন চমৎকার নার্স ছিলেন।
এই ট্রাস্টের যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা অবস্থান করি, তিনি তার উত্তম উদাহরণ।
গত ৫ই এপ্রিল তার করোনা ভাইরাস পজেটিভ আসে পরীক্ষায়। ৭ই এপ্রিল হাসপাতালে
ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাকে ফেরানো গেল না। এই বেদনাবিধূর সময়ে তার পরিবার ও
বন্ধুদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। আমরা আশা করবো, তার পারিবারিক
গোপনীয়তা এ সময়ে রক্ষা করা হবে। ওদিকে মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং-এর মৃত্যুর পর
তার স্বামী ও সন্তানকে সাহায্য করার জন্য চালু করা হয় গো-ফান্ড-মি পেজ। এর
২৪ ঘন্টার মধ্যে এতে জমা পড়ে এক লাখ ১৭ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই পেজটি
চালু করার মূল লক্ষ্য ছিল ২০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করা। তহবিল সংগ্রহের ওই পেইজে
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেরি আগিওয়া আগিয়াপোং পরিচিত ছিলেন মেরি মো নামে।
তিনি ছিলেন সবার কাছে আশীর্বাদ, তার ভালবাসা, সেবা আন্তরিকতা অপূরণীয়। এই
তহবিলে অর্থ দান করে একজন লিখেছেন, এ খবর শোনার পর হৃদয়টা ভেঙে গেল। আমরা
বলে যাই, আপনার অমায়িক হাসির জন্য, আপনার শক্তির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
