তিন রোহিঙ্গার শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির উখিয়ার কুতুপালং করোনার ঝুঁকিতে পড়েছে। আগেরদিন বৃহস্পতিবার আক্রান্ত একজনকে নিয়ে মোট চার রোহিঙ্গার শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লো। এদের সংস্পর্শে আসা প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

গত ৪৪ দিন ধরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে গাদাগাদি করে থাকা লাখো রোহিঙ্গার মধ্যে বৃহস্পতিবার প্রথম এক রোহিঙ্গা করোনা রোগী ধরা পড়ে। গতকাল পর্যন্ত চার রোহিঙ্গাসহ কক্সবাজারে মোট ১৬৬ জন করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ৪৪ দিনে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবরেটরিতে ৩ হাজার ৫৪৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬৬ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে আক্রান্ত রোহিঙ্গা ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের লোকজনকে ক্যাম্পের মধ্যে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত একজনের পরিবার ক্যাম্পের এফ ব্লকের বাসিন্দা। যেকারণে ওই ব্লকের ১ হাজার ২৭৫টি ঘর রেড মার্ক করা হয়েছে। ফলে এসব ঘরে থাকা প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে লকডাউনে রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাতে করোনা ছড়িয়ে না পড়ে সেই জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কথিত হামলার ধুয়ো তুলে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সেনাবাহিনী নির্যাতন নিপীড়ন শুরু করে। নির্বিচারে ধর্ষণ-হত্যা ও বাড়িঘরে আগুনের মাঝে প্রাণে বাঁবতে বাংলাদেশের দিকে ঢল নামে রোহিঙ্গাদের। সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার আশ্রয় জোটে কক্সবাজারের বিভিন্ন শরনার্থী শিবিরে। আগে থেকে কক্সবাজারে থাকা আরও ৪ লাখ মিলিয়ে বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031