‘যুদ্ধ বাধলে কোনও পক্ষই জয়ী হতে পারবে না’ বলে সতর্ক করে দিয়ে চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই উত্তর কোরিয়া নিয়ে উত্তেজনার অবসান চেয়েছে।

কোরিয়া উপদ্বীপ অভিমুখী যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী এবং উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতিকে ঘিরে টান টান উত্তেজনার মধ্যে ‘যে কোনও সময় সংঘাত দেখা দিতে পারে’ বলে সতর্ক করেছে চীন।

গত সপ্তাহে সিরিয়ায় ইদলিবের খান শেইখৌন শহরে রাসায়নিক গ্যাস হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিরীয় বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জবাবও যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে দেবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে ‘ধৈর্যচ্যুতি’ ঘটেছে বলে ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রণতরীও কোরিয়া উপদ্বীপে যাচ্ছে। পিয়ংইয়ং অভিযোগ করে বলেছে, এ পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়া উপদ্বীপকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে।

আগবাড়িয়ে কোনও হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করেও ষষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ওদিকে, চীন তার দোরগোড়ায় এমন সামরিক উত্তেজনা নিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় পড়েছে৷ যুদ্ধ বাধলে উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়বে এবং চীন সীমান্তে সঙ্কট সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই উত্তেজনা কমাতে চীন শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হলে কোনও পক্ষই জয়ী হবে না।

তিনি বলেন, “একদিকে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। আর যে কোনও মুহূর্তে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কায় আছে আরেকপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষরই অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।”

“আমরা সব পক্ষকেই একে অপরকে কথা কিংবা কাজের মাধ্যমে কোনও উস্কানি দেওয়া কিংবা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এক টুইটে একাই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলে চীনের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, চীন সাহায্য করুক আর না করুক যুক্তরাষ্ট্র একাই উত্তর কোরিয়া সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সম্প্রতি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সিরিয়া সরকারের ওপর তিনি এরই মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। আফগানিস্তানেও আইএস জঙ্গিদের ওপর অপারমাণবিক সবচেয়ে বড় বোমা বিস্ফোরণ এরই মধ্যে ঘটিয়েছেন তিনি।

উত্তর কোরিয়াকে থামানো না গেলে তারা যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে বলে উদ্বিগ্ন ওয়াশিংটন।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031