জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ২০২০ সালকে নিজের মেয়াদকালের সবচেয়ে কঠিন বছর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন । নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া আবেগঘন এক ভাষণে এমনটা বলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে দ্য হিল। খবরে বলা হয়, চ্যান্সেলর হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে আছেন মার্কেল। এটাই দেশটির শীর্ষ নেত্রী হিসেবে তার শেষ মেয়াদ হতে যাচ্ছে।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, পরবর্তী নির্বাচনটিতে লড়বেন না তিনি। নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। বুধবার ক্ষমতায় থাকাকালে নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া সর্বশেষ ভাষণ দেন তিনি। সাধারণত আবেগ প্রকাশ না করলেও, এ ভাষণে মার্কেলের ভিন্ন এক রূপ দেখা গেছে।
চলমান মহামারির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমি একটুও বাড়িয়ে বলছি না।
উল্লেখ্য, বার্তা সংস্থা রয়টার্স অনুসারে, চলতি বছর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনটি সম্পন্ন হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগলে ২০২২ সালে পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেন মার্কেল।
মার্কেল বলেন, করোনায় প্রিয়জনদের হারিয়ে শোকার্ত ব্যক্তিদের বা ভাইরাসটির শিকাররা কতটা তিক্ত বোধ করছেন, আমার কেবল তা কল্পনাই করতে পারি। অথচ কিছু অকর্মণ্য ব্যক্তি এখনো ভাইরাসটির অস্তিত্ব প্রত্যাখ্যান করেন, সংশয় প্রকাশ করেন।
রয়টার্স অনুসারে, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারির প্রথম দফা সংক্রমণ মোকাবিলায় সফলতা ও বিজ্ঞানের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের জন্য পুরো বছরজুড়েই প্রশংসিত হয়েছেন মার্কেল। ডিসেম্বরের শুরুতেই করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউন জারি করেন মার্কেল। জার্মানিতে তখন রেকর্ড পরিমাণ সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। এমতাবস্থায়, স্কুলে যাওয়া বন্ধ, বদ্ধ জায়গায় সর্বোচ্চ পাঁচ জনের জমায়েতের বিধান জারিসহ বেশিরভাগ পরিহার্য দোকানপাট বন্ধ করে দেন মার্কেল।
ইউরোপে শীতকালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির মুখে সবচেয়ে আগে লকডাউন জারি করা দেশগুলোর একটি ছিল জার্মানি। তাদের অনুসরণ করে পরবর্তীতে ফ্রান্স, ইতালি ও যুক্তরাজ্যও লকডাউন করে।
