রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি বলেন, এক বিভাগের কর্মকাণ্ডে যেন অন্য বিভাগের কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত না হয় বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় রাষ্ট্রপতি মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি) সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতেও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আব্দুল হামিদ বলেন, দেশব্যাপী আদালতে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টে অনলাইন কজ-লিস্ট চালু হয়েছে এবং অনলাইন বেল কনফারমেশন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু কোর্ট অব রেকর্ড সেহেতু এর সকল নথিকে ডিজিটাল নথিতে পরিণত করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলখানা থেকে আদালতে আসামিদের উপস্থিত করা এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এসব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে ভবিষ্যতে ই-জুডিসিয়ারি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে জুডিসিয়াল রিভিউ ক্ষমতা। এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জ্ঞানের চর্চায় আইনজীবীগণ পূর্বের চেয়ে আরো এগিয়ে যাবেন এবং তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করবেন।

আব্দুল হামিদ বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি। দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি বিভাগকে সহযোগিতা ও আস্থার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোন বিভাগের কর্মকাণ্ড অন্য কোনো বিভাগের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত বা জাতীয় স্বার্থ বিঘ্নিত না হয়।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও জাজেস কমিটির সভাপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিচারকবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবগণ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728