সরকার শুধুমাত্র দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে কারো সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছে বাংলাদেশের নেই, বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা প্রকৃতপক্ষে কারো সাথে যুদ্ধে জড়াতে চাই না। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।

গতকাল পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিএনএস শের–ই–বাংলা’র নবনির্মিত ঘাঁটি, ৪১টি পিসিএস–এর চারটি জাহাজ ও চারটি এলসিইউর কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। খবর বাসসের।

সরকার প্রধান বলেন, সরকার নৌবাহিনীসহ সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে, ফলে তারা আন্তর্জাতিক স্তরের যোগ্যতা ও মান অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ হয়ে উঠেছে। আমরা সেই উদ্দেশ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। হেলিকপ্টার কেনার পাশাপাশি সাগরে নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে।

নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত সাড়ে ১৪ বছরে ‘ফোর্সেস গোল–২০৩০’ অর্জনে নৌবহরে এভিয়েশন উইং ও সাবমেরিন যুক্ত করে নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ বিশ্বে ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, নৌবাহিনীতে সর্বাধিক সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অন্যদিকে হেলিকপ্টার এবং টহল বিমান এবং বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডাইভিং অ্যান্ড স্যালভেজ (এসডব্লিউডিএস) দ্বারা সজ্জিত নেভাল এভিয়েশন তৈরি করা হয়েছে। জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। আমাদের নৌবাহিনী ইতোমধ্যে অনেক সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘বায়ার নেভি’ থেকে ‘বিল্ডার নেভি’–তে পরিণত হয়েছে।

বিএনএস শের–ই–বাংলা ঘাঁটি এবং নৌবাহিনীর ৮টি জাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই ঘাঁটি ও জাহাজগুলো তাদের নিজ নিজ অপারেশনাল কার্যক্রমের পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা ছাড়াও সমুদ্রে দেশি–বিদেশি জাহাজ এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে। নৌবাহিনী চোরাচালান ও অবৈধ মাছ ধরা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এই বাহিনী উপকূলীয় জনগণকেও সহায়তা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশ–বিদেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌবাহিনী শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বিশাল অবদান রেখে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বহুজাতিক মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের অধীনে ভূমধ্যসাগরে সফলভাবে মোতায়েন করায় বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে। বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে যাবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত, সমৃদ্ধশালী, স্মার্ট দেশ। এভাবেই আমরা বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল। পরে, এই প্রথম বারের মত নৌ–ঐতিহ্য অনুযায়ী বিএনএস শের–ই–বাংলা ঘাঁটি, চারটি জাহাজ এবং চারটি এলসিইউতে জাতীয় পতাকা উড়ানো হয়–যা নৌবাহিনীতে ‘রঙ’ নামে পরিচিত।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930