স্বর্ণদ্বীপকে ঘিরে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে এটি সিঙ্গাপুরের মতো সমৃদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নোয়াখালীর। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত পরিকল্পনা এবং উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

শনিবার স্বর্ণদ্বীপ পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলপকালে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

সফরকালে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত বনায়ন, উন্নত প্রজাতির নারিকেল বাগান, মিলিটারি ফার্ম পরিদর্শন রাষ্ট্রপতি।

এই দ্বীপটি এক সময় জলদস্যুদের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী দ্বীপটিকে গড়ে তোলার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পাল্টে গেছে সব। এখন সেখানে পরিকল্পিত চাষাবাদের পাশাপাশি নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে।

প্রকল্প ঘুরে এসে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি দেখে খুবই অভিভূত। এখানে দেখলাম সকল ধরনের সবজি থেকে শুরু করে ধানও হচ্ছে। এটা যদি সরকার বা সেনাবাহিনীর অধীনে থাকে তবে তারা যেকোনো পরিকল্পনা অনুযায়ী গড়ে তুলতে পারবেন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিলে এই দ্বীপ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। আয়তনের দিক দিয়ে প্রায় সিঙ্গাপুরের সমান এবং সমুদ্রের সন্নিকটে এই দ্বীপকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারলে ভবিষ্যতে এটি বাংলাদেশের জন্য আরেক সিঙ্গাপুর হয়ে যেতে পারে।’

দুপুরে হেলিকপ্টারে করে স্বর্ণদ্বীপ নামেন রাষ্ট্রপতি। এরপর তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন ৩১ শয্যা হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

এরপর সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে স্বর্ণদ্বীপে ম্যানুভার প্রশিক্ষণ এলাকার পরিকল্পিত ব্যবহার দেখে প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। সেই সঙ্গে স্বর্ণদ্বীপের প্রশিক্ষণ সুবিধা সেনাবাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ  অবদান রাখবে বলে আশার কথা বলেন। দ্বীপের চারপাশে বাঁধ দেওয়া দরকার বলেও মনে করেন রাষ্ট্রপতি।

সেনাবাহিনী প্রধান আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক হবুব আলম তালুকদার ও পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, স্বর্ণদ্বীপ নোয়াখালীর দক্ষিণে মেঘনা নদীতে প্রায় ২০ বছর আগে জেগে ওঠে একটি চর। এর বেশিরভাগ অংশই হাতিয়া উপজেলার। এছাড়া এ চরের কিছু অংশ নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পড়েছে। মূলত তিনটি উপজেলার ভূমি নিয়েই সুবর্ণচর গঠিত। পূর্বে এটি জাহাইজ্জার চর নামে পরিচিত ছিল। ৩৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চরটি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হস্তাস্তর করার পর স্বর্ণদ্বীপ হিসেবে নামকরণ করা হয়।

এই চরের উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি ত্রিমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বনায়ন ও স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন রয়েছে। ইতোমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে ৬০ হাজার ঝাউ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। দুই টন কেওড়ার বীজ বপণ করা হয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনাম থেকে আনা ডুয়ার্ফ প্রজাতির উন্নতমানের পনেরোশ নারিকেল গাছের চারার দিয়ে একটি আদর্শ নারিকেল বাগান তৈরি করা হয়েছে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930