দুই বছর আগে যে লাখ লাখ অভিবাসী যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে পালিয়ে জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিল – তাদের মধ্যে অনেকেই এখন আবার সিরিয়ায় ফিরে যাচ্ছে।
তারা বলছে, জার্মানিতে অনেক দিন থাকলেও সেখানকার সমাজের সঙ্গে তারা মিশতে পারছে না।
তাই একাধিক দেশের ভেতর দিয়ে শত শত মাইল পাড়ি দিয়ে যে পথে তারা ইউরোপে এসেছিল- ঠিক সেইসব বিপজ্জনক এবং অবৈধ চোরাই পথগুলো দিয়েই তারা আবার তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় ফিরে যাচ্ছে।
এদেরই একজনের নাম জাকারিয়া। তিনি এবং তার দলের কয়েকজনকে অনুসরণ করে বিবিসির সংবাদদাতারা দেখেছেন কিভাবে তারা গ্রিস সীমান্ত দিয়ে তুরস্কে ঢুকছেন।
গ্রিসের পুলিশ অনেক সময়ই অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দেবার চেষ্টাকারীদের আটক করে। গ্রিস-তুরস্ক সীমান্তে এ রকম ১০-১২ জন সিরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং গ্রেপ্তারের দৃশ্যও দেখেছেন তারা।
এই দৃশ্য দেখলে অনেকে বিস্মিত হবেন। কারণ তারা গ্রিসে ঢোকার চেষ্টা করছে না, যেমনটা দুই বছর আগে হাজার হাজার লোক করেছিল। বরং উল্টোটা হচ্ছে এখানে, এরা আসলে ইউরোপ ছেড়ে আবার সিরিয়ায় ফিরে যাবার চেষ্টা করছে।
তারা ইউরোপ ত্যাগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং সে জন্য যে অবৈধ পথে তারা এসেছিল -সেই অবৈধ পথেই আবার তুরস্ক হয়ে সিরিয়া ফিরে যেতে চাইছে।
বিবিসির কাছে জাকারিয়া বলছিলেন এর কারণ।
জার্মানির ব্যাডেন উর্টেমবার্গে ছিলেন জাকারিয়া। সেখান থেকেই তার যাত্রা শুরু। তিনি বলছিলেন, ‘আমি এই দেশে এসেছিলাম দুই বছর আগে।’
‘আমি ভেবেছিলাম, এখানেই থেকে জীবনে উন্নতি করব এবং জার্মানদের দেখিয়ে দেব যে আমরা শুধু শরণার্থী নই।’
‘কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি এখানে একজন বহিরাগত। জার্মান সমাজের সঙ্গে আমাদের কোন যোগাযোগ তৈরি হয়নি। আমরা এ সমাজে মিশতে চেষ্টা করেছি – কিন্তু সত্যি বলতে কি জার্মানরা খুবই শীতল, তারা আমাদেরকে গ্রহণ করার চেষ্টাও করতে চায় না।’
তিনি বলছিলেন, ‘আমি যা অর্জন করব ভেবেছিলাম তার কিছুই করতে পারিনি, এক শতাংশও নয়। শুধু আমার ক্ষেত্রেই যে এমন হয়েছে তা নয়। এ রকম আরো অনেক আছে।’
‘তাই আমি ঠিক সেই চোরাই পথ দিয়েই সিরিয়ায় ফিরে যাচ্ছি- যে পথ দিয়ে আমি এখানে এসেছিলাম।’
পর দিন জাকারিয়া পৌঁছালেন গ্রিসের থেসালোনিকি শহরে। এই শহরের বাস স্টেশনটি জাকারিয়ার মতো সিরিয়ানদের জন্য যানবাহনের একটা বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। মনে করা হয়, এ পথ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে শত শত লোক যাচ্ছে।
জাকারিয়া বলছিলেন দেশে ফেরার জন্য পথে নেমেই তিনি কতটা উত্তেজিত।
‘আমি এত অধীর হয়ে উঠেছি যে – দেশে পৌঁছানোর জন্য আমার তর সইছে না। যদিও এই পথটা কঠিন, এর ওপর আছে ঠান্ডা আর বৃষ্টি।’
