মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর ও নেত্রী অং সান সুচি আভ্যান্তরীণ কারণে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেবেন না । তার পরিবর্তে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হেনরি ভ্যান থিও। তিনিই জাতিসংঘের কাছে মিয়ানমার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কাইওয়া জেয়া অনলাইন দ্য ইরাবতীকে এসব কথা বলেছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, সুচির যোগ দেয়া নিশ্চিত নয়। দ্য ইরাবতীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয় ইউ কাইওয়া জেয়া বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টেট কাউন্সেলর (অং সান সুচি)-এর সামনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ ইস্যু। এগুলোতে মনোযোগ দেয়া জরুরি। তার পরিবর্তে মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তার সঙ্গে থাকবেন মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইউ থাউং তুন। ওদিকে ১২ই সেপ্টেম্বর মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, জাতিসংঘের বৈঠকে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির যোগ দেয়া নিশ্চিত নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারের মুখপাত্র সোমবার বলেছেন, রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর দেশে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যোগ দিতে অং সান সুচির যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া অনিশ্চিত। রোববার দ্য মিয়ানমার টাইমসকে পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কাইও জায়ার বলেছেন, (সুচির) ওই সফরের সম্ভাবনা ৫০-৫০। সোমবার এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারে। এতে বলা হয়, গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর বিশ^ বাণিজ্য কেন্দ্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়, এই সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে জাতিগত রাখাইন অথবা মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ। এতে দাবি করা হয়, রোববার ৫০ জনের মতো যুবক মুখোশ পরে মাগওয়ে রিজিওনে তাউং ডউন গাই এলাকায় বেশ কিছু মুসলিমের বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে। সরকারের ইনফরমেশন কমিটি অনুযায়ী, সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জনগণকে অতিরিক্ত নজরদারি করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইনফরমেশন কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় সম্প্রদায়ই মানুষের মাঝে পীড়া বাড়ানোর জন্য সহিংসতা ঘটাতে পারে। ইউ কাইও জায়ার বলেছেন, স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচির নিউ ইয়র্কে যাওয়ার শিডিউল ছিল পূর্ব নির্ধারিত। কিন্তু তার সেই সফর বিঘ্নিত হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে। ওদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মহাপরিচালক ইউ কাইও মোয়ে তুন বলেছেন, জাতিসংঘের সফর নিয়ে তারা বিস্তারত জানাবেন না। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ ওঠে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তখন রাখাইন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে আমরা প্রস্তুত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের শিডিউল অনুয়ায়ী, জেনেভাতেও অনুষ্ঠিত হবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠক। সেখানে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মৌখিক রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের।
