স্ট্যানফোড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পরিবেশ নিয়ন্ত্রকদের ক্ষমতায়নের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করেছেন । তারা মনে করেন, এআই বা মেশিন নির্ভর এই পদ্ধতিতে স্যাটেলাইটের ছবিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের ইটভাটাগুলো থেকে যে উচ্চ মাত্রায় পরিবেশ দূষণ হয় তা যথাযথভাবে নির্ণয় করতে পারবে নিয়ন্ত্রকরা। ফলে এক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের জন্য খরচ হবে ন্যূনতম। অনলাইন স্ট্যানফোর্ড নিউজে এ কথা বলা হয়েছে। রব জর্ডানের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারহিরোদের মতো কাজ করতে পারেন পরিবেশ বিষয়ক নিয়ন্ত্রকরা। শিগগিরই তারা তাদের দৃষ্টি ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হবেন। সব বাধা পেরিয়ে তারা দেখতে সক্ষম হবেন যে, পরিবেশ বিষয়ক নিয়মনীতি কোন সময়ে কোথাও কেউ লঙ্ঘন করছে কিনা। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে এক নতুন গবেষণায় এসব কথা বলা হয়েছে।

ওই গবেষণাপত্র ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএস)’ প্রকাশিত হয়েছে ১৯ শে এপ্রিল। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কিভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবি ব্যবহার করে সবচেয়ে কম খরচে এসব বিষয় তদারক করতে পারেন নিয়ন্ত্রকরা।
এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ইটভাটা পরিবেশ দূষণের বড় একটি কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে গুরুত্ব দিয়ে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের কথা। বলা হয়েছে, কোথায় কোথায় ইটভাটা আছে তা নির্ণয় করা নিয়ন্ত্রকদের জন্য খুব জটিল বিষয়। এ জন্য ইটভাটার অবস্থান সম্পর্কে কোনো ডাটাবেজ নেই। এই সমস্যা মোকাবিলার জন্য স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা একটি মেশিন আবিষ্কার করেছেন। এটা ব্যবহার করে স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে ইটভাটা শনাক্ত ও তার অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।

গবেষণাপত্রের সহলেখক ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা’র ইনস্টিটিউট ফর সোশ্যাল রিসার্স অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশনের নিনা ব্রুকস বলেন, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতিতে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ইট সরবরাহ দেয়ার ক্ষেত্রে দেশজুড়ে রয়েছে ইটের ভাটা। ফলে কোথায় কোথায় ভাটা নির্মাণ করা হয়েছে, তারা নিয়মনীতি মেনে চলছে কিনা তা নির্ধারণ করা নিয়ন্ত্রকদের জন্য বাস্তবেই অনেক কঠিন বিষয়। স্ট্যানফোর্ডে পিএইচডির শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এই গবেষণা করেছেন। আগের দিনে ভাটা বিষয়ে নজরদারি করার জন্য এমন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল সম্পদশালী দেশগুলোতে। কিন্তু তা ছিল ব্যয়সাপেক্ষ। এ জন্য সস্তায় যাতে এ কাজটি করা যায় সেজন্য স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা দৃষ্টি দিয়েছেন বাংলাদেশের ওপর। এখানে সরকারের পরিবেশ নিয়ন্ত্রকরা অনানুষ্ঠানিক ইটভাটা নির্ধারণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর তো আইন প্রয়োগ পরের কথা।
ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়ম, দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইট। কিন্তু তা উৎপাদন করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে। এসব ভাটায় কর্মসংস্থান হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের। এসব ভাটায় কয়লার পর্যাপ্ত উপস্থিতি নেই। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের জন্য ভাটা একটি বড় ফ্যাক্টর। সারা বছর বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইট নিঃসরণ হয় তার মধ্যে শতকরা ১৭ ভাগ আসে ইটভাটা থেকে। আর এখানকার ঢাকা হলো দেশের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। এখানে বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস মানুষের ফুসফুসের জন্য বিপজ্জনক। দেশে সার্বিক বায়ু দূষণের জন্য এই খাতটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এ জন্য বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু মোটামুটি দুই বছর কমে গেছে।
স্ট্যানফোর্ডের স্কুল অব মেডিসিনের সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ে প্রফেসর ও গবেষণার সিনিয়র লেখক স্টিফেন লুবি বলেন, প্রতি বছর বায়ু দূষণ ৭০ লাখ মানুষকে মেরে ফেলে। এ জন্য আমাদের উচিত এই দূষণের উৎস চিহ্নিত করে সেখান থেকে দূষণ ছড়িয়ে পড়া কমিয়ে আনা।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031