চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল। ২০২১ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের প্রথম সারির একটি ‘স্মার্ট পোর্ট’ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ১৩০ তম বন্দর দিবস উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সি মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, দক্ষতার সাথে সুন্দর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং প্রকল্পগুলো পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের প্রথম সারির একটি ‘স্মার্ট পোর্ট’ হিসেবে রূপান্তরিত হবে। চট্টগ্রাম বন্দর আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
এম খালেদ ইকবাল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৫ সালে ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৬৪ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন কার্গো ও ২০ লাখ ২৪ হাজার ২০৭ টিইউইএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এজন্য লয়েড লিস্ট প্রকাশিত তালিকায় ৭৬তম স্থান অর্জন করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর। ২০১৬ সালে ৭ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ মেট্রিকটন ও ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ৯০৯ টিইউইএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। অর্থাৎ গত এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ। আশা করছি লয়েড লিস্ট প্রকাশিত তালিকায় এ বছর চট্টগ্রাম বন্দর আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে ২ হাজার ৭০৯টি জাহাজ। ২০১৬ সালে এসেছে ৩ হাজার ১৪টি জাহাজ। কার্গো, কনটেইনার এবং জাহাজের এই প্রবৃদ্ধি সামাল দেয়া চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীররা নিরলসভােেব কাজ করছেন। সরকারের ২০২১ ও ২০৪১, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও ৭ম পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনা সামনে রেখে মাস্টার প্ল্যানের ভিত্তিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে এই টার্মিনাল নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু গত কয়েক মাসে ১১টি আরটিজি সংগ্রহের কাজ চ’ড়ান্ত করেছি। চারটি স্ট্রাডল কেরিয়ার ও পাঁচটি কনটেইনার মুভার সংগ্রহের চুক্তি সম্পাদন করেছি। কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের জন্য ৬টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের জন্য দরপত্র আহবান করেছি। বন্দরের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য সম্পূর্ণ এলাকা সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এম খালেদ ইকবাল বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নৌবহরে থাকা বোটগুলোর নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে নোঙ্গর করাসহ নানা কাজের জন্য একটি সার্ভিস জেটির দাবি ছিল। সম্প্রতি আমরা প্রস্তাবিত এই সার্ভিস জেটির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছি। প্রাপ্ত দরপত্র মূল্যায়ন শেষে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে দ্রুত আমরা জেটি নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো। এছাড়া সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে, যার কাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ হতে পারে। তাছাড়া কর্ণফুলী কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য বন্দরের সাথে সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সমঝোতা হয়েছে।
বে-টার্মিনাল প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বে-টার্মিনালের ভ’মি অধিগ্রহণের জন্য কিছুদিনের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক সমীক্ষা পরিচালনার জন্য নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্টান তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বে-টার্মিনালে ১২ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভিড়ানো যাবে। আশা করছি আগামী মে মাসের শেষ নাগাদ বে-টার্মিনালের সম্ভাব্য সমীক্ষার চ’ড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। ২০২১ সালের মধ্যেই বে-টার্মিনালের প্রথম পর্বের কাজ সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে লালদিয়া মাল্টি পারপাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য পিপিপি অফিস কর্তৃক প্রথম পর্যায়ের সম্ভাব্য সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। উক্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি কারিগরি ও আর্থিকভাবে কার্যকর বিবেচিত হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ এই টার্মিনালটির নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, অপারেশনাল কাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় আমরা কিছু কাজ করতে চাই। আমরা একটি প্রতিবন্ধী স্কুল তৈরীর পরিকল্পনা নিয়েছি। সেখানে প্রথম পর্যায়ে ৩০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করানো যাবে। মুক্তিযুুদ্ধে স্মৃতি ধরে রাখতে শাহ আমানত সেতুর কাছে একটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণ করতে যাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন জ্যাকপটকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য জুলফিকার আজিজ, মো. জাফর আলম, শাহীন আলম, পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সরওয়ার, প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) নাজমুল হক প্রমুখ।
