হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাধ্যতামুলক অভিবাসন বিষয়ক কোটার ওপর গণভোটে বিজয় দাবি করেছেন । ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ দেশটিকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি কোটা নির্ধারণ করে দেয়। সেই কোটা প্রত্যাখ্যান করে গণভোট দেয় দেশটির সরকার। সরকারকে সমর্থন করে শতকরা প্রায় ৯৮ ভাগ ভোটাররা ভোট দেন। তবে ভোটে টার্নআউট বা ভোট পড়েছে কম। শতকরা মাত্র ৪৩ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছেন। পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে প্রয়োজন শতকরা কমপক্ষে ৫০ ভাগ ভোট। তা থেকে কম ভোট পড়লেও প্রধানমন্ত্রী বিজয় দাবি করেছেন। এ অবস্থায় সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, গণভোটের ফল রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে বৈধ। এটা মানতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই গণভোটের ফলকে আমলে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের প্রতি। তিনিও ভোটারদের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। তাই তিনি হাঙ্গেরির সংবিধান পরিবর্তন করবেন। কিন্তু বিরোধীরা বলছে, প্রয়োজনীয় সমর্থন পায় নি সরকার। উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার বিভিন্ন অঞ্চলে এক লাখ ৬০ হাজার অভিবাসীকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে হাঙ্গেরিকে বলা হয়েছে ১২৯৪ জন আশ্রয় প্রার্থী অভিবাসী গ্রহণ করতে। দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক কোয়ালিশনের নেতা ফেরেঙ্ক গুরকসানি বলেছেন, গণভোটে কম ভোটার উপস্থিত হয়েছেন। এতে প্রমাণ হয় যে, বেশির ভাগ মানুষই সরকারকে সমর্থন করে নি। তবে সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, গণভোটের এই ফল বাতিল বলে গণ্য করার কোনো উপায় নেই। সরকার গণভোট আহ্বান করেছে। তাই রাজনৈতিকভাবে ও আইনগতভাবে এর ফল মানা বাধ্যতামুলক। এটা এমন এক সিদ্ধান্ত যা মানতে বাধ্য সরকার। বিবিসির নিউজ ইউরোপ সম্পাদক কাতিয়া আদলার বলেছেন, গণভোটের এই ফল প্রধানমন্ত্রী ভিক্টরের জন্য একদিকে বড় ধরনের পরাজয়। আবার এটা তার জন্য জোরালো এক জয়ও। একদিকে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরোধী একজন সুখ্যাত নেতা। অভিবাসন বিষয়ক গণভোটের পক্ষের প্রচারক। কিন্তু ভোটে তিনি প্রয়োজনীয় টার্গেট (শতকরা ৫০ ভাগ ভোটার উপস্থিত করাতে) পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু যারা ভোট দিয়েছেন তারা সর্বসম্মতক্রমে তাকে সমর্থন করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেধে দেয়া কোটার বিরুদ্ধে উচ্চ হারে ভোট দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান বলেছেন, তার এই বিজয় হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কেন্দ্রীকরণের বিরুদ্ধে পাল্টা অভ্যুত্থান। তিনি মনে করেন অন্য দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করবে এবং অভিবাসন কোটা বিষয়ে তারা গণভোট দেবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলো কোটার ধারণাটিকে এড়িয়ে যাচ্ছে। গত বছর অভিবাসী নিয়ে সঙ্কটের সময়ে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রুট হয়ে ওঠে হাঙ্গেরি। সেই জনস্রোত কমিয়ে আনতে সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এ দেশটি। দেশের ভিতর এ উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু এমন কর্মকা-ের তীব্র সমালোচনা করে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031