উড়াল সড়ক আতঙ্কের নাম বহদ্দারহাট । প্রাণহানীসহ নানা দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্মিত উড়াল সড়কটি তেমন কোনো কাজেই আসেনি। সেটা স্বীকার না করলেও শেষ পর্যন্ত এই উড়াল সড়কের ব্যবহারে কালুরঘাট সড়কে র্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।
কিন্তু এই র্যাম্প নির্মাণে চলছে চরম ধীরগতি। ১১০মিটার দৈর্ঘ্য এই র্যাম্প নির্মাণে গত দু‘বছর ধরে চলছে নগরবাসীর ভোগান্তি। ভোগান্তির নাম হচ্ছে নিত্য যানজট। ভাঙা-চোরা সড়কে বড় বড় গর্ত। বর্ষার কাঁদা-জল। একমুখে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় পায়ে হেঁটে জীবন নির্বাহের যন্ত্রণা।
ভুক্তভোগীরা জানান, সড়কের র্যাম্প নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকে বহদ্দারহাট মোড়ে যানজট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ফলে শহরের অধিকাংশ যানবাহন বহদ্দারহাট মোড়ে যায় না। গেলেও তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া নেই সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকরা।
নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকের এ ব্লকের সামনে থেকে বহদ্দারহাট মোড়ে উড়াল সড়ক পর্যন্ত র্যাম্প নির্মাণ করছে মুরাদপুর-লালখান বাজার উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স রেনকিন জেবি। এজন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বহদ্দারহাট মোড় থেকে আরাকান সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। আরেক পাশ খোলা থাকলেও তা অত্যন্ত সরু। যা দিয়ে যান চলাচল সত্যিই দুরূহ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বন্ধ সড়কের যানবাহন বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালের ভিতর দিয়ে নতুন চান্দগাঁও থানার সামনে হয়ে চলাচল করছে। যা নতুন ব্রিজে চলাচলকারী যানবাহনের সাথে এক কিলোমিটার এলাকায় যোগ হচ্ছে। ফলে বহদ্দারহাট মোড় থেকে এ সড়কে নিত্য যানজট লেগেই থাকে। এ যানজটের ফলে বহদ্দারহাট মুরাদপুর সড়ক, বহদ্দারহাট চকবাজার সড়কেও যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উড়াল সড়কের র্যা¤প নির্মাণকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আলমগীর আগামী আগষ্ট মাসে এটির কাজ শেষ করার কথা বলছে। তম্মধ্যেও রয়েছে বৃষ্টির দোহাই। এর আগে গত জুনে র্যাম্প নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছিল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। যা বৃষ্টির কারনেই হয়নি বলে দায় এড়াচ্ছে। বৃষ্টির কারনে বর্তমানে র্যা¤প নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে এই র্যাম্প নির্মাণ কাজ কখন শেষ হবে তা নিয়ে সন্দিহান ভুক্তভোগীরা।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. আলমগীর আরো বলেন, র্যাম্পটির ৮০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। বৃষ্টি থামলেই বাকী কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। বৃষ্টির কারনে আপাতত র্যাম্প নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এ প্রসঙ্গে বলেন, র্যাম্পটি নির্মাণ হলে কালুরঘাট ও কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে আরাকান সড়ক হয়ে আসা সকল যানবাহন এবং নতুন ব্রিজ, চকবাজার ও মুরাদপুর থেকে আসা তিনটি সড়কের যানবাহন অতিক্রম করতে পারবে এই উড়াল সড়ক দিয়ে। উড়াল সড়কটির র্যাম্প নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হবে।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, উড়াল সড়ক দিয়ে এখন শাহ আমানত হয়ে কক্সবাজার মহাসড়কের যানবাহন চলাচল করছে। আগে এ সড়কে যানজট প্রকট ছিল। উড়াল সড়ক দিয়ে চলাচলের কারনে এ সড়কে যানজট কমেছে। তবে দুর্ঘটনার কারনে এই উড়াল সড়কে যানবাহন চালাতে চালকরা ভয় পান বলে স্বীকার করে তিনি। আর এই উড়াল সড়ক যথাযথ ব্যবহারে কালুরঘাট সড়কে র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বহদ্দারহাট স্বজন সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী আবু মুহাম্মদ মুছা জানান, গত দেড় বছর আগে উড়াল সড়কে র্যাম্প নির্মাণের কাজ শুরুর পর মাটি থেকে থাম নির্মাণের কাজই শেষ হয়েছে মাত্র। গত এক মাস ধরে কাজ বন্ধ ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে স্থানীয় জনমনে।
তিনি জানান, এ উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজের কারনে বহদ্দারহাট মোড় থেকে কোনো রিকশা বা সিএনজি আটোরিকশা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, ফরিদের পাড়া, সমশেরপাড়া, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল যাই না। এমনকি নগরী থেকে কোনো গাড়ি বহদ্দারহাট যায় না। গেলেও ১০ টাকার ভাড়া ৫০টাকা, ৫০টাকার ভাড়া ২০০ টাকা চাই চালকরা। ফলে পায়ে হেটে জীবন নির্বাহ করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
এছাড়া যানজটের কারনে বহদ্দারহাট মোড় পার হতে গলদঘর্ম হতে হয় নগরবাসীরা। ৮-১০ জন ট্রাফিক পুলিশ দিয়েও এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া র্যাম্প নির্মাণ কাজে সৃষ্ট সড়কে বড় বড় গর্তে পড়ে মানুষ প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছে।
