যত মানুষ মারা গেছে, তাদের মধ্যে সিংহভাগই কোনো যানবাহনের যাত্রী না। তারা মারা গেছে রাস্তা পারাপারে।২০১৭ সালে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু আগের বছরের তুলনায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ বেড়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে চার হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাত হাজার ৩৯৭ জন। আর আহতের সংখ্যা ১৬ হাজার ১৯৩ জন।

আহতদের মধ্যে হাত, পা বা অন্য কোন অঙ্গ হারিয়ে অচল হয়েছেন এক হাজার ৭২২ জন।

শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদনটি পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে চার হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৫৫ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিলেন।

২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়েছে ১৫.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান বের করেছেন তারা। এর বাইরেও হতাহত আছে। কারণ, অনেক সড়ক দুঘটনার খবরই প্রকাশিত হয় না।

অনুষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অতীতে মহামারীতে অনেক লোক মারা যেত। বর্তমান সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা একটি মহামারী। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’

দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সংগঠন ‘ফুয়ারা’র সভাপতি ইকরাম আহম্মেদ বলেন, ‘মহাসড়কগুলোতে ডিভাইডার দিয়ে আলাদা করে দেয়া গেলে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটবে না। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে আসবে।’

দুর্ঘটনায় বেশি পড়ে ট্রাক

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৭ সালে যতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে তার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান। এক হাজার ৬৩৫টি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান দুর্ঘটনাকবলিত হয় বিদায়ী বছরে।

এর বাইরে এক হাজার ৪৭৫টি মোটরসাইকেল, এক হাজার ২৪৯টি বাস, এক হাজার ৭৪টি অটোরিক্সা, ৮২৪টি নছিমন-করিমন, ২৭৬টি হিউম্যান হলার, ৩২২টি ব্যাটারিচালিত রিক্সা এবং ২৬২টি কার, জিপ বা মাইক্রোবাসের মতো ব্যক্তিগত যানবাহন দুর্ঘটনাকবলিত হয়েছে।

আবার যারা হতাহত হয়েছেন তাদের ৪২.৫ শতাংশ পথচারী। এর বাইরে ২৫.৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১১.৯ শতাংশ খাদে পড়ে, ২.৮ শতাংশ চাকায় ওড়না পেচিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন।

কোন মাসে কত দুর্ঘটনা

সাধারণভাবে ঘন কুয়াশার জন্য সড়ক দুর্ঘটনা বেশি হয় বলে ধারণা করা হলেও যাত্রী কল্যাণ সমিতির গবেষণা চলছে, বছরের কোনো একটি মাস বা মৌসুমে দুর্ঘটনা বেশি হয় না। মোটামোটি সারা বছরেই সমান হারে দুর্ঘটনা হয়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৪৫০ টি দুর্ঘটনায় ৫২০ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪৬৬ টি দুর্ঘটনায় ৫৩৫ জন, মার্চে ৪৭২ টি দুর্ঘটনায় ৫০৬ জন, এপ্রিল মাসে ৩৭৭ টি দুর্ঘটনায় ৪১৮ জন, মে মাসে ৪৩১টি দুর্ঘটনায় ৫৩৯ জন, জুনে ৪০২ টি দুর্ঘটনায় ৫০৩ জন, জুলাইয়ে ৩৮০টি দুর্ঘটনায় ৪২৫ জন, আগস্টে ৩৪৪টি দুর্ঘটনায় ৩৯১ জন, সেপ্টেম্বরে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬৬, অক্টোবরে ৪২৬টি দুর্ঘটনায় ৪৬৫ জন, নভেম্বরে ৪০৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৭ জন এবং ডিসেম্বরে ৪৩০টি দুর্ঘটনায় ৫০০ জন নিহত হয়েছে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930