রোহিঙ্গারা পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট মিয়ানমারের নাগরিক হয়েও  । রোহিঙ্গারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় কৌশলে এ দেশের ঠিকানা ব্যবহার করে। সঙ্গে জমা দেয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে নেওয়া নাগরিকত্বের সনদ। আবেদনে উল্লেখ করা ঠিকানায় গিয়ে যাচাই-বাছাই করছেন না সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনেক সময় আবেদনকারীর পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এভাবেই রোহিঙ্গাদের হাতে যাচ্ছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। কয়েক বছর ধরে এভাবে পাসপোর্ট নিয়ে ৫০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা হয়ে গেছে বাংলাদেশের নাগরিক । বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে রোহিঙ্গারা পাড়ি দিচ্ছে বিদেশে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা রোহিঙ্গাদের অনেকের বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও তারা নানা ধরনের অপরাধ করছে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা যাতে আর বাংলাদেশি পাসপোর্ট না পায় সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব সনদ দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কোনো সদস্য রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের জন্য পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দিলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ কেউ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তাদের ছেলেমেয়ের বিয়ে দিচ্ছে। কোনো কাজি রোহিঙ্গার সঙ্গে বাংলাদেশি নাগরিকের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলে তার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের জন্য সামাজিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। তারা নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। ভুয়া ঠিকানা দিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সেখানে গিয়ে অপরাধে জড়িত হয়ে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে। রোহিঙ্গাদের কেউ যাতে আর এ দেশের পাসপোর্ট না পায় সে জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে যারা সহায়তা করবে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা অসাধু কর্মকর্তা ও রাজনীতিকদের পরোক্ষ সমর্থন পেয়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি এলাকায় আত্মীয়তা করার সুযোগ পাচ্ছে। এ সুযোগ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে বসবাস করছে। পরে সুযোগ মতো পাসপোর্ট তৈরি করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। সম্প্রতি এসব বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।  প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও ৫০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারাই বাংলাদেশের শ্রমবাজার দখল করছে। অথচ মাত্র দুই-পাঁচ হাজার টাকার জন্য রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তাদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।’  স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবৈধভাবে বসবাস করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, কোনো রোহিঙ্গা যেন বাংলাদেশে জমি কিনতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ডিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে প্রবেশ করা রোহিঙ্গাদের গ্রেফতারের পর মামলা করতে পুলিশকে বলা হয়েছে। অবৈধভাবে যেসব রোহিঙ্গা বিদেশে চলে গেছে তাদের পাসপোর্ট নবায়ন না করতে বাংলাদেশি মিশনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কোনো রোহিঙ্গার তথ্য পেলে তাদের পাসপোর্ট দ্রুত বাতিল করতে বলা হয়েছে।  ভুয়া প্রতিবেদন দিলে শাস্তি :রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে কারও বিরুদ্ধে অসততার প্রমাণ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে যেসব রোহিঙ্গা জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলো বাতিল করা হবে। যে নোটারি পাবলিকরা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি বলে সত্যায়ন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা এবং তারা যাতে বাংলাদেশে জমি কিনতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জরিপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
পাহাড় ও বন কেটে রোহিঙ্গাদের বসবাস :অনেক রোহিঙ্গা খাসজমি, বন বিভাগের পাহাড়, সমুদ্রের চরে অবৈধভাবে বসবাস করছে। স্থানীয় লোকজন কম টাকায় তাদের কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। অনেক দরিদ্র পরিবার রোহিঙ্গাদের কাছে মেয়ে বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই করে রেখেছে। কোনো কোনো এলাকার জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বার্থে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। এ ছাড়া কিছু এনজিও পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে । বর্ডার পাস নিয়ে টেকনাফ, উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারে আসা অনেক রোহিঙ্গা সারাদেশে যাতায়াত করে। তাদের অনেকে বাংলাদেশে থেকে যায়। অথচ একদিনের বর্ডার পাস নিয়ে কোনো বাংলাদেশি মিয়ানমারের মংডুর নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারে না।
Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031