সড়কের ওপর বসা নিয়ে হকার ও পুলিশের মাঝে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছেন গরীর নিউমার্কেট এলাকায় । গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে আধ ঘন্টাব্যাপী সংঘটিত এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৪/৫ জন পুলিশ সদস্যও আছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে থেকে দেখা যায়– নিউমার্কেট এলাকার জলসা মার্কেট ভবনের সামনের সড়কে হকাররা বসার প্রস্তুতি নিলে পুলিশ বাধা দেয়। এসময় পুলিশের ১৫/২০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের বাধা পেয়ে সংঘবদ্ধ হতে থাকে হকাররা। প্রায় চার শতাধিক হকার জড়ো হয়ে পুলিশের সাথে বাক–বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এসময় উভয় পক্ষকেই মারমুখী অবস্থান নিতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট–পাটকেল ছুড়ে মারতে শুরু করে হকাররা। কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও সংখ্যায় কম হওয়ায় পিছু হটতে বাধ্য হয় পুলিশ। জলসা মার্কেট ভবনের প্রতিটি ফ্লোর থেকেও ইট–পাটকেল ছুড়ে মারে হকাররা। দুই পাশ থেকে হকারদের ধাওয়ায় পুলিশ এক পর্যায়ে বিপনী বিতানে ঢুকে যেতে বাধ্য হয়। থেমে–থেমে চলা এ ধাওয়ার ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় নিউ মার্কেট এলাকায়। ফাঁকা হয়ে যায় নিউমার্কেট মোড়। থমথমে পরিস্থিতিতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। বিপনি বিতানসহ আশপাশের মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করতে আসা অনেকেই আটকা পড়েন। কিছুক্ষন পর ঘটনাস্থলে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স পৌঁছালে ফের অ্যাকশনে যায় পুলিশ। এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কোতোয়ালি থানার ওসি (অফিসার ইনচার্জ) জসিম উদ্দিন। এরপর পুলিশের ধাওয়ায় হকাররা পিছু হটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে স্বাভাবিক হয় পরিবেশ। শুরু হয় ফের যান চলাচল।
পুলিশকে লক্ষ্য করে হকাররা চওড়া হওয়ায় এ উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে দাবি করেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন। ঘটনাস্থলে তিনি আজাদীকে বলেন, ‘হকাররা সড়কের উপর বসতে চেয়েছিল। পুলিশ বাধা দেওয়ায় তারা পুলিশের উপর চওড়া হয়। ইট–পাটকেল ছুড়ে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। জলসা মার্কেট এবং লাগোয়া একটি ভবনের প্রতিটি ফ্লোর থেকে পুলিশের দিকে ঢিল ছোড়া হয়। পরে অতিরিক্ত দুই প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়তে হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ৪/৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন দাবি করে ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করা হয় বলেও জানান ওসি জসিম উদ্দিন।
এদিকে ফুটপাত ছেড়ে সড়কের ওপর বসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সম্মিলিত হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি মিরণ হোসেন মিলন। তিনি বলেন, হকাররা সড়কে বসে না। ফুটপাত ও নালার ওপর বসে। আগের সিএমপি কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল যেসব স্থান চিহ্নিত করে দিয়েছেন, সেখানেই হকাররা ব্যবসা করে আসছে।
উলেহ্মখ্য, রমজানের দ্বিতীয় দিন (২৯ মে) ওই এলাকার সড়কের উপর থেকে হকারদের তুলে দেয় নগর পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ–প্রশাসন ও হকার নেতাদের সাথে বৈঠকও হয়। বৈঠকে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে এতদিন ধরে সড়কে বসেনি হকাররা। তবে গতকাল হকারদের বসতে চাওয়ার বিষয়ে সংগঠনের নেতারা কিছু জানেন না বলে জানান ফেডারেশনের সভাপতি মিরণ হোসেন মিলন। সংগঠনের কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই তারা ফুটপাতে বসতে যায় বলে দাবি এই হকার নেতার। আর পুলিশের সাথে সংর্ঘষের ঘটনায় ৮/৯জন হকার আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর বলেন, ঢাকা মহানগরে ঈদের আগে ১০ দিন হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (গতকাল) একটি জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে হকাররা এ খবর জানতে পেরে তারাও এখানে বসতে চেয়েছে। চলতি রোজার দ্বিতীয় দিন থেকে হকারদের বসতে দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, হকাররা অনেকেই না খেয়ে রোজা রাখছে। তাদের ব্যবসা বন্ধ। খাবে কি? তাই ঢাকার মতো ঈদের আগে অন্তত ১০ দিন হকারদের ব্যবসা করার সুযোগ দেয়ারও দাবি জানান এই হকার নেতা।