চমকের এখানেই শেষ নয়। বর নতুন বৌকে নিয়ে বাড়ি ঢুকতে চাইছে। কিন্তু দরজা আটকে দাঁড়িয়ে বাড়ির লোকেরা। বাধ্য হয়ে তাই পুলিশের শরণাপন্ন হওয়া। অবশেষে পুলিশের সাহায্যেই ৫৮ বছরের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ঢুকলেন পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাসিন্দা ৭৮ বছরের ক্ষুদিরাম বেজ। রবিবার দুপুরে এমন ঘটনার সাক্ষী রইল আরামবাগের নৈসরাই।
প্রতিবেশীরাই জানালেন, বছর দেড়েক আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ক্ষুদিরামের স্ত্রী পদ্মাদেবী বেজ। স্ত্রীর মৃত্যুর পর বর্ধমানের বেড়াল গ্রাম থেকে অবিবাহিত শ্যালিকা দুর্গাদেবীকে বাড়িতে এনে রাখেন ক্ষুদিরাম। দুর্গাদেবীরও বয়স হয়েছে। এদিকে ক্ষুদিরামের অভিযোগ ছিল, ছেলে-বৌমারা যত্ন করছিল না তাকে। তাই সিদ্ধান্ত নেন, যে শ্যালিকা তাকে দেখাশুনা করছে তাকেই স্ত্রীর মর্যাদা দেবেন। কিন্তু ভাবলেই তো আর সব কাজ করা যায় না। ফলে প্রথম বাধাটা পেলেন ছেলেদের কাছ থেকে। তারা কিছুতেই বাবার এই বৃদ্ধ বয়সে বিয়ে মেনে নিতে পারছিলেন না। কিন্তু এত সহজে হারার পাত্র নন ক্ষুদিরাম। তার কথায়, যে আমার খাওয়া-পরার দায়িত্ব নিয়েছে, সেই আমার স্ত্রী। তাকে সম্মানটুকু না দিই কী করে?
পাশে পেয়েছিলেন প্রতিবেশীদেরও। রবিবার দুপুরে পড়শিরা সকলে একজোট বেঁধে বিয়ে দিয়ে দিলেন ক্ষুদিরাম আর দুর্গাদেবীর। সোলার মুকুট আর টোপর পড়ে মন্ত্র পড়ে সিঁদুর দান হল। হল শুভদৃষ্টি, মালা বদলও। বিয়ের মন্ত্রপাঠ করলেন স্থানীয় পুরোহিত বিকাশ ভট্টাচার্য। কিন্তু আবারও বাধা।
নব দম্পতিকে বাধা দিলেন ক্ষুদিরামের ছেলে-বৌমারা। এ বার পুলিশে খবর দিলেন পড়শিরা। পুলিশ এসে নব দম্পতিকে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন। তবে খালি মুখে ফেরেনি পুলিশও। তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল মিষ্টি আর কোমল পানীয়।
বাবার বিয়েতে আপত্তি কেন ছেলেদের?
পড়শিদের অভিযোগ, বাবাকে ছেলেরা দেখে না। শুধুসম্পত্তি ভোগ করতে চায়। বাবা বিয়ে করলে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা হলে ভাগে কম পড়ে যাবে।
ক্ষুদিরামের ৪৪ বছরের ছেলে রামপ্রসাদ বেজ বলেন, ‘সম্পত্তি ভাগ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। বাবার এমন কাণ্ড তো লোক হাসানো। বাবাকে বলেছিলাম খালাকে নিয়ে থাক। শাঁখা-সিঁদুর পরানোর দরকার নেই।’
ছেলেদের কথা কানেই তুলছেন না ক্ষুদিরাম। পাশে স্ত্রীকে বসিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘কে কী বলল, আমার কিছু যায় আসে না। দুর্গাকে তার সম্মান দিতে পেরেছি, এতেই আমি খুশি।’
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
