প্রণীত শিক্ষানীতিমাল প্রকাশ করা হয়েছে ৯০ বছরের পুরনো শিক্ষা বিভাগকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশ পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের জন্য ।
সোমবার (০৩ এপ্রিল) নগর ভবনের কেবি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন চসিক প্রণিত এ শিক্ষা নীতিমালা প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মেয়র বলেন, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রির চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ২৬ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করি। এরপর সিটি কর্পোরেশনে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কিছু বিশৃঙ্খলা দেখতে পাই।
‘শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈষম্য, টাইম স্কেল, পদন্নোতি, স্থায়ীকরণ, জ্যেষ্ঠতা ইত্যাদি নিয়ে অসন্তোষ লক্ষ্য করি। এজন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম ও জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ নিয়ে একটি কমিটি গঠণ করি।’ বলে জানা সিটি মেয়র।
এসময় মেয়র ১১৪ পৃষ্ঠার এ নীতিমালা স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রণীত স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান বিধি(লোকার কাউন্সিলস সার্ভিস রুলস-১৯৬৮) গুপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেম সরকারের ২০১০ সালে পণীত শিক্ষা নীতিমালা ও ৮ম জাতীয় পে-স্কেলের সাথে সমন্বয় করে প্রণয়ন করা হয়। যেখানে শুধুমাত্র সিটি কর্পোরেশনের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ ও প্রস্তাবনাগুলোই নীতিমালায় গ্রন্থিত করা হয়েছে বলে জানান।
এত প্রয়োজনে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি, আইনসঙ্গত যৌক্তিক প্রস্তাবনা, সরকারি বিধিবিধান ও নীতির সাথে সামঞ্জস্য বিধানের সাতে প্রয়োজনে অত্র নীতিমালা সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে সংশোধন করা হবে বলে তিনি জানান।
নীতিমালাটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে জানিয়ে মেয়র বলেন, এই নীতিমালার আলোকে ইতোমধ্যে, নিয়োগ, স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। যার বাস্তবায়ন সহজেই দেখা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, আমি মেয়রের চেয়ারে আছি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য। মেয়াদ শেষ, আমিও শেষ। আবার নির্বাচন হবে। এরপর দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু আমি যতদিন আছি আমাকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। চট্টগ্রাম শহর অন্য জেলা থেকে এগিয়ে আছি। ১৭ শতাংশ কর নিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা হচ্ছে। ইনটেনশনালি করা হচ্ছে। রাজস্ব আয় না হলে বেতন দিতে পারব না। আনপপুলার করা চেষ্টা চলছে। মনে করা হচ্ছে, আমি ব্যর্থ হওয়া মানে উনাদের সফলতা।
তিনি বলেন, পছন্দের লোকের কাছে অন্যায় করলেও অন্যায় মনে হয় না। আবার পছন্দ না করলে সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দিলেও সমালোচনা হয়ে থাকে। বলবে পাঁচ ভরি দিয়েছে, আট ভরি তো দিল না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।
ভুল করলে সাংবাদিকরা তুলে ধরলে হাসিমুখে নেবেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আনোয়ারা ও মিরসরাইতে স্পেশাল ইকোনমিক জোন হবে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে। এখন থেকে উন্নয়ন করতে না পারলে, চট্টগ্রাম শহরকে ঢেলে সাজাতে না পারলে বিনিয়োগকারীরা আসবে না। অনেকে মনে করছে কীভাবে আ জ ম নাছির উদ্দীনকে বেকায়দায় ফেলা যায়, মানুষকে বিভ্রান্ত করা যায় সেই চেষ্টা করছেন। আমি ভুল করলে সাংবাদিকরা নির্দ্বিধায় আপনারা তুলে ধরবেন। আমার এই সীমাবদ্ধতা, এই ব্যর্থতা। আবার অন্য কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ কিছু বললে সেটিও তুলে ধরবেন।
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন আছে। তবে এটি ঠিক যে জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয়টি আছে সেটি চসিকের। স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় হয়েছে চসিকের তহবিল থেকে। এমনকি ৫ কোটি টাকা ডিপোজিটও চসিকের হিসাব থেকে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জায়গা নিয়ে যে মামলা চলছে তাতে সাবেক মেয়র আদালতে যে এফিডেভিট জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন,সমিতির নেতা ভাটিয়ারী বিজয় স্মরনী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ শিক্ষক মো: জাহাঙ্গী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, শিক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক সুমন বড়ুয়া, সদস্য সচিব মিসেস নাজিয়া শিরিন, সদস্য কাজী নাজিমুল ইসলাম, কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মো. জাহাঙ্গীর, এস মোস্তফা আলম সরকার সহ শিক্ষা সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
