গত বছর অক্টোবরের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ। পঁচিশে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয় পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
, এর ফলে মানবিক সঙ্কট ঘনীভূত হয়েছে। ত্রাণ বিষয়ক এজেন্সিগুলোর মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগস্টে সৃষ্ট সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা কমপক্ষে ৮৭ হাজার। গত বছর অক্টোবরে একই রকম সহিংসতায় যে পরিমাণ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছিল এ সংখ্যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে। কক্সবাজারে বাংলাদেশ সীমান্তে জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী গত অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ওদিকে চারদিন আগে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন মোহাম্মদ হোসেন (২৫)। তিনি এখনও থাকার কোনো জায়গা পাননি। বলেছেন, আমরা অস্থায়ী হলেও একটি ঘর বানানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু জায়গা নেই। কোনো বেসরকারি সংগঠন আমাদের কাছে আসেনি। আমাদের কাছে খাদ্য নেই। রাস্তার পাশে সন্তান প্রসব করছেন কোনো কোনো মা। অসুস্থ শিশুরা পাচ্ছে না চিকিৎসা। গত বছর অক্টোবরের নৃশংসতার পর বালুখালীতে একটি রোহিঙ্গা শিবির গড়ে তোলা হয়েছিল। এটি সরকার স্বীকৃত নয়। সেই ক্যাম্পের পরিধি নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। শ’ শ’ রোহিঙ্গা রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়েছে। অন্যরা বাঁশ ও তারপুলিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী আবাসনে আশ্রয় নিয়েছে। ওদিকে মিয়ানমার সরকার বলছে, তারা রাখাইনের উত্তরাঞ্চল থেকে ১১ হাজার ৭০০ জাতিগত (বৌদ্ধ) অধিবাসীকে সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান, তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসোগুলু রোহিঙ্গা মুসলিমদের এমন করুণ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এমন নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এরদোগান। তিনি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদকেও ফোন করেন। এ সময় তিনি পলায়নরত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রস্তাব দেন। তবে সেই সহায়তা কেমন হবে, আর্থিক সহায়তা কিনা সে বিষয়ে স্পষ্ট করা হয়নি। এরদোগানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভাসোগলু মুসলিম বিশ্বের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওদিেক রোববার মিয়ানমার পৌঁছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। অং সান সু চি ও মিয়ানমারের শীর্ষ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সোমবার তার সাক্ষাতের কথা। রোববার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় মিয়ানমারের দূতাবাস লক্ষ্য করে হাতবোমা ছোড়া হয়েছে।
টেকনাফে সড়কজুড়েই রোহিঙ্গা
আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) থেকে জানান: টেকনাফের প্রধান সড়ক, বেড়িবাঁধ ও বিস্তীর্ণ বিল জুড়ে রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা। বিশেষ করে রাতের বেলায় বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে সকাল বেলায় প্রধান সড়কে সারি সারি রোহিঙ্গা বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়ের জন্য ছুটছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। ঈদের পরদিন রোববার থেকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর সোমবার দিনভর এ দৃশ্য দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৩রা সেপ্টেম্বর হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্ট পাশের মাঠে কয়েক শত রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন যানবাহন থেকে নামিয়ে জমায়েত করে রাখা হয়েছে। একইভাবে হ্নীলা চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাইমারি স্কুলে এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক শত রোহিঙ্গাকে জড়ো করেছে। এ দুই স্থানে বিজিবিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। অবার সিএনজি, টমটম, মাহিন্দ্রা, ছারপোকা, মিনি ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে ইচ্ছামতো উভয় দিকে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া লোকালয় এবং লেদা, নয়াপাড়া, কুতুপালং, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে ঢুকে পড়ছে। এমনকি অনেক রোহিঙ্গা উপকূলীয় ইউনিয়ন বাহারছড়ার শামলাপুর চলে গেছে। আবার কিছু রোহিঙ্গাকে উনছিপ্রাং সরকারি প্রাইমারি স্কুলে এবং নিকটবর্তী রইক্ষ্যং নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কাঞ্জরপাড়ায়। এখানে নাফ নদের পাশে ধানক্ষেতে কয়েক মাইল জুড়েই ছিল অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা। প্রধান সড়কে বিজিবি ছিল তৎপর। সারা দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে সন্ধ্যার সময় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা উনছিপ্রাং, কুতুবদিয়াপাড়া, কাঞ্জরপাড়া, ঝিমংখালী, মিনাবাজার প্রধান সড়কের কাছে চলে আসে। এ সময় প্রধান সড়কের উভয় দিকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থানের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যার পর পুলিশ-বিজিবি’র পদস্থ কর্মকর্তা রোহিঙ্গা জমায়েতের পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেন। এদিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্থানীয় ও বিত্তবানরা বিভিন্ন প্রকার শুকনো খাবারসহ মানবিক সহায়তা দিতে দেখা গেছে। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এমনিতেই মিয়ানমারে (তাদের ভাষায়) চতুর্মুখী হামলায় দিশাহারা। উপরন্তু অর্ধাহারে, অনাহারে সহায় সম্পদ ফেলে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও পেটের ক্ষিধায় বিশেষত শিশু এবং বৃদ্ধ ও অসুস্থদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
