
ছাগল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া এই অজগরটি আজ সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্য ছলিমপুর পাহাড়ে স্থানীয় কৃষকদের হাতে ধরা পড়ে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় স্থানীয় কৃষকদের হাতে ধরা পড়েছে বড় আকারের ছাগল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া একটি অজগর। আজ রোববার সকালে ছলিমপুর ইউনিয়নের মধ্য ছলিমপুর পাহাড়ে কমপক্ষে ১৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ওই অজগরটি ধরা পড়ে। পরে তাঁরা অজগরটিকে ধরে ছলিমপুর বাংলাবাজার এলাকায় মধ্য ছলিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যান।
আজ বিকেলে ওই বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, অজগরটির মুখ বস্তাবন্দী করে রশি দিয়ে বেঁধে ভ্যানগাড়িতে রাখা হয়েছে। পেটের মাঝামাঝি অংশ ফুলে রয়েছে। উৎসুক জনতা এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছে। সেখানে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অজগরটি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অজগরটি ধরার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক যুবক মো. শওকত প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন সময়ে গভীর জঙ্গল থেকে অজগর সাপসহ অন্য পশু লোকালয়ের কাছে এসে গবাদিপশু খেয়ে চলে যায়। এ কারণে স্থানীয় লোকজন পালা করে তাঁদের পশুগুলো পাহারা দেন। আজ সকালে বড় আকারের ছাগল খেয়ে ওই অজগরটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক কৃষক সাপটিকে দেখে ফেলেন। পরে তিনি মুঠোফোনে সবাইকে ঘটনাটি জানান। এরপর ১৫-২০ জন যুবক গিয়ে অজগরটি ধরে ফেলেন। পরে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর চৌধুরী মঞ্জুর মোর্শেদকে খবর দেওয়া হলে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এটিকে নিয়ে যান।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জঙ্গল ছলিমপুর এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে এসে নির্মমতার শিকার হয় একটি শজারু। পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিড়িয়াখানায় পশুটি মারা যায়।
চৌধুরী মঞ্জুর মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, অজগরটিকে চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সাপটি দেখেননি। যতটুকু জেনেছেন, অজগরটির বিশ্রাম প্রয়োজন। তার আগে অস্ত্রোপচার করে অজগরটির পেট থেকে পশুটি বের করা প্রয়োজন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাহাড়ে মানুষের যাতায়াত, বন নিধনসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় অজগরসহ অন্য প্রাণীরা লোকালয়ে চলে আসছে।