একটি জীবিত নবজাতককে ডাক্তাররা কীভাবে মৃত ঘোষণা করলেন সেটি ভেবে এখনো বিস্মিত এবং আতঙ্কিত বোধ করছেন নবজাতকটির বাবা-মা। চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবিত নবজাতককে মৃত হিসেবে ঘোষণার পর এখন তাকে ভিন্ন আরেকটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এটি ছিল একই রকম দ্বিতীয় ঘটনা। গতমাসে ফরিদপুরে অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া একটি শিশুকে মৃত ঘোষণা করলেও দাফনের সময় কেঁদে ওঠার পর বোঝা যায় যে সে জীবিত।

এবার চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালে জীবিত শিশুকে মৃত ঘোষণা করা হলো। চট্টগ্রামের সদ্য জন্ম নেয়া বাচ্চাটির পিতা-মাতা দু’জনেই চিকিৎসক। বাবা নুরুল আজম কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার। অন্যদিকে নবজাতকের মা রিদোয়ানা কাউসার বান্দরবান আলী কদম উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক।

নুরুল আজম বিবিসি বাংলা-কে বলেন, সোমবার দিবাগত রাত একটায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার স্ত্রী সন্তান প্রসব করেন। কিন্তু জন্মের দুই ঘণ্টা পরে শিশুটির মৃত্যু সনদসহ তাকে কাপড়ে ঢেকে একটি বাক্সে করে মায়ের কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়।

কিন্তু মা রিদোয়ানা কাউসার তার ‘মৃত নবজাতকের’ মুখ শেষবারের মতো দেখার জন্য বাক্স খোলেন। বাক্স খুলে তিনি দেখতে পান তার সন্তান নড়াচড়া করছে। তিনি বিষয়টিতে ডাক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তারা সেদিকে মোটেই নজর দিচ্ছিলেন না।

নুরুল আজম বলেন, ‘আমার স্ত্রী তাদের জিজ্ঞেস করলো আপনারা আমার সন্তানকে কেন ডেড ডিক্লেয়ার (মৃত ঘোষণা) করলেন? তখন ডাক্তার বললেন, না এটা ডেড। কেবল মাসল নড়াচড়া করছে। মারা যাবার পর এটা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ডাক্তার কোনোভাবেই মানতে চাইলেন না যে নবজাতক জীবিত আছে। পরে নবজাতকের মা তাকে একটি পাশের ক্লিনিকে নিয়ে যায়। বাচ্চাটি এখন আরেকটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে আছে।

আজম বলেন, ‘সে ছিল প্রিম্যাচিউর বেবি। এনআইসিইউ সাপোর্ট ছাড়া তার বাঁচাটাই কষ্টকর। সেক্ষেত্রে তাকে একটা বক্সে ভরে ডেড ডিক্লেয়ার করে পাঠিয়ে দিয়েছে।’

‘এটা কত বড় ঘটনা! ও যে বেঁচে ছিল এটা আল্লাহর রহমত’, বলেন নুরুল আজম।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী যদি ডাক্তার না হতেন তাহলে পুরো বিষয়টি হয়তো ধরতেই পারতেন না।

আজম অভিযোগ করেন, পুরো বিষয়টি ঘটেছে আইসিইউতে কর্তব্যরত চিকিৎসকের অবহেলার কারণে। খবর-বিবিসি বাংলা।  

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930