প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সব সময় দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করে মন্তব্য করে  বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে স্বল্প আয়ের মানুষদের উন্নতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এর সুফলও পাচ্ছে দেশের মানুষ।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গণভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ কথা বলে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা তেলের মাথায় তেল দেই না। আমাদের রাজনীতিই হচ্ছে এ দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। তাদেরকে উন্নত জীবন দেয়া।’ তিনি বলেন, ‘বেদে, হিজড়া, হরিজনদের মতো সমাজের অবহেলিত শ্রেণির জন্যও আমরা কাজ করছি, তাদের সম্মানের ব্যবস্থা করেছি। তারা তো মানুষ’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিদেশে গিয়ে অনেক জায়গায় অনেককে বলতে শুনেছি, ও তো লেবারের কাজ করছে। আমি বলেছি, তো কি হয়েছে, সে তো কাজ করছে। চুরি তো করছে না। আপনারাও তো কাজ করেন, অবহেলার কী আছে?’

দেশের বাইরে গেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে অনেকেই জানতে চায় জানিয়ে প্রধানমন্তী বলেন, ‘অনেকে বলে আমরা এত উন্নতি কীভাবে করছি, আমাদের ম্যাজিকটা কী? আমি বলি, ম্যাজিক কিছু নেই, সবই আন্তরিকতা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আসলেই দেশের উন্নতি হয়, এটাই বাস্তবতা। কারণ, আমরা কাজ করি মনের টানে। প্রতিটি মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়, লেখাপড়া করতে পারে, স্বাস্থ্যসেবা পায়-সেটাই নিশ্চিত করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছি আমরা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খাবো, কেউ খাবে না-এটা আমাদের নীতি নয়, বরং আমি খাবো না, সবাই খাবে-এটাই আমরে নীতি।’ তিনি বলেন, নীতি যদি ঠিক থাক আর পদক্ষেপ যদি নেয়া যায়, তাহলে দেশের উন্নতি যে করা যায়, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’

পোশাক শিল্প শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে তাদের হয়ে কারখানা মালিকদের সঙ্গে দরকষাকষি করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল পোশাক শ্রমিক নয়, সব শ্রেণির মানুষই যেন উন্নত জীবন পায়-সেটা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে সাধারণ মানুষ, কৃষক, দিনমজুরের ভাগ্য বদলানোর জন্য। দিনমজুররাও এখন যে মজুরি পায় তা দিয়ে তারা খাদ্য কিনতে পারে, মাছও কিনতে পারে আবার কিছু টাকা জমাতেও পারে। অথচ এক সময় যে মজুরি পায় তা দিয়ে এক বেলা খাবারও যোগাতে পারতো না তারা।

কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকারখানা স্থাপনে এখন কেবল সরকারের প্রতি আর নির্ভর করা যায় না। এ ক্ষেত্রে সরকারি খাতে কর্মসংস্থান সীমিত। মাত্র ৭৬ হাজার শ্রমিক কাজ করে এই খাতে।

সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে কোম্পানি করে দেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্তী বলেন, ‘সরকারি নিয়ন্ত্রণে না থেকে কোম্পানি করলে বেতন ও টাকা বেশি আসবে।’

বিদেশে যাওয়ার আগে প্রশিক্ষণ নেয়ার আহ্বান

জনশক্তি রপ্তানি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে এই খাতে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। মানুষ গলাকাটা পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ যেতো এবং এক পর্যায়ে খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হতো।

এই পরিস্থিতি পাল্টে সরকার বিদেশে পাঠানো শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করেছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সারাবিশ্বে স্কিল্ড লোক নেয়। এখন আর যাকে তাকে পাঠিয়ে দিলাম, এটা হবে না। সরকার সারাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছে। এখন যান্ত্রিক যুগ, সে জন্য যথাযথ টেরিং নিয়ে যেন সবাই কাজ করে।’

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031