সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি হ্রাস করতে এবার নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বীমার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাদেরকে লাইফ বীমা ও স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা দেয়া হবে। আগামী অর্থবছরে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই বীমা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে তা বহুলাংশে হ্রাস পাবে। এরই মধ্যে দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বীমা প্যাকেজ প্রবর্তনের বিষয়ে স্টেকহোল্ডার বা বিনিয়োগকারিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বীমা চালুর সুপারিশ ছিল পে কমিশনের প্রতিবেদনে। মন্ত্রী পরিষদ সভায় বিষয়টি অধিকতর বিবেচনায় করতে নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কমিটির বৈঠক এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। কিভাবে এই বীমার বাস্তবায়ন করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে ব্যাংকিং বিভাগ। সরকারের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বীমা চালু করা কঠিন। নীতিটি বাস্তবায়নের আগে পরীক্ষার জন্য আরো সময় প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন আসলাম আলম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই বীমা প্যাকেজ নিয়ে সম্প্রতি সরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতে ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথোরিটি, জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন অ্যান্ড বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি প্রস্তাব দাখিল করবে ব্যাংকিং বিভাগের কাছে। পরে আর্থিক বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে সরকারকে দেয়া পে কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি চাকরিজীবীদের বীমা সুবিধার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মীচারীদের পরিবারের সদস্যরা এ সুবিধা পাবেন। কমিশনের নতুন সুপারিশে বেতন বা স্বাস্থ্যভাতা থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে রাখা হবে বলে উল্যেখ করা হয়।

এর বিনিময়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় সুবিধা দেয়ার সুপারিশ করে কমিশন। তবে কেউ মারা গেলে অথবা দুর্ঘটনার কারণে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে আলাদাভাবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

বীমা সুবিধার জন্য প্রিমিয়াম বাবদ যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে সেই অর্থের সংস্থানের উৎস নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবও রাখা হয় বেতন কমিশনের সুপারিশে। এক্ষেত্রে পুরো বীমার অর্থ সরকারের কাছ থেকে নেয়া অথবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেয়ার প্রস্তাব করা হয়।

বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে প্রিমিয়ামের টাকা সরকার ও চাকরিজীবী উভয়ের কাছ থেকে আদায় করা হবে। এছাড়াও বিকল্প প্রস্তাবের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে সেখান থেকে প্রিমিয়ামের টাকা কেটে নেয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।

বীমার পাশাপাশি চাকরিজীবীদের নামে পাঁচ বছরের জন্য একটি স্বাস্থ্যকার্ড প্রদানের প্রস্তাব করা হয় বেতন কমিশনের ওই প্রতিবেদনে। এ কার্ড প্রদর্শন করে সরকারি এবং মাঝারি মানের বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকিং সচিব এম আসলাম আলম আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই বীমা প্যাকেজ দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির ঘটনা হ্রাস করবে। যদিও দুর্নীতির বিষয়টি শুধু মাত্র একটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে না। তবে বিমা যেহেতু একধরনের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে তাই এই উদ্যোগ বাড়তি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতর।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031