রেল কৃর্তপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলাকেই পাটনার ট্রেন দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এর নেপথ্যের অন্য এক কারণ খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে। ৫০ এর দশকের যে বগিগুলো দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রেনটিতে ব্যবহার করা হচ্ছিলো, সেগুলো এখন আর সময়োপযোগী নয়। তবে সুইডিশ কোম্পানির সহায়তায় চেন্নাইয়ের যে কোম্পানি এই বগিগুলো বানাচ্ছিলো, তারা অনেক পুরনো প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্যবসা রক্ষায় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন তিনি। এ বছরের শুরুতে ঝুঁকিপূর্ণ বগি সংস্কারের সরকারী ঘোষণা সত্ত্বেও তিনি তার কার্যক্রম চালু রাখতে সমর্থ হন। বিশ্বস্ত রেলসূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এসব কথা জানায়।

রবিবার ভোরে পুখরাইয়ার কাছে ইন্দোর থেকে পাটনাগামী ভারতীয় রেলের ১৯৩২১ এক্সপ্রেস ট্রেনটির ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। রেল নিরাপত্তা কমিশনারের (উত্তরাঞ্চল) নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন তিনি। নির্দেশমতোই, কাজে নেমে পড়েন তদন্তকারীরা। প্রাথমিকভাবে রেললাইনে চিড় ধরার ফলেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের মতে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং লাইনের বিভিন্ন ফিটিংয়ের অপর্যাপ্ত জোগানের ফলেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই আলোচনায় আসে ট্রেনের বগির প্রসঙ্গও। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রেনের বগি। এখন  যে কামরা ব্যবহার করা হয়, সেগুলো হলো এলএইচবি (লিঙ্ক হফম্যান বুশ) ধাঁচের। জার্মান প্রযুক্তিতে বানানো ওই কামরাগুলো লাইনচ্যুত হলে একটি আরেকটির পিছনে ঢুকে যাওয়ার পরিবর্তে ঘাড়ের উপর চড়ে যায়। এতে প্রাণহানি কম হয়। কিন্তু ইনদওর-পটনা এক্সপ্রেসের মতো কম গুরুত্বহীন ট্রেনে এখনও মান্ধাতার আমলের টেলিস্কোপিক কামরা ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনা ঘটলে যে কামরাগুলো একে অপরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। ফলে প্রাণহানি বাড়ে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।

আইএফসি মডেলের এই বগিগুলো ৫০ এর দশকের। একটি সুইস কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে এই বগিগুলো তৈরী করেছিল চেন্নাইয়ের এক কোচ কোম্পানি। এই বগিগুলোর ক্ষেত্রে ট্রেন চলাচলে সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটর গতিতে ট্রেন চালানোর সুযোগ থাকে। যেখানে  এলএইচবি বগি হলে ১২০ কিলোমিটার গতিতেও ট্রেন চালানো যায়। রবিবার পাটনার ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনেক কম হতে পারত ট্রেনে এলএইচবি বগি থাকলে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভারত সরকার এ বছরের শুরুতে রেল লাইন ও ঝুকিপূর্ণ বগি সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল। এর আগে গত বছর এ খাতের আধুনিকায়ন ও বিস্তৃতির জন্য পাঁচ বছরে ১৩৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।তবে রেল মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করছে, বগি সংস্কার কার্যক্রম শুরুর পরও ওই প্রতিষ্ঠান আইএফসি বগি বানিয়েই চলেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের দাবি, আইএফসি মডেলের এই বগিগুলো তৈরীর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানটি অনেক পুরনো শিল্প প্রতিষ্ঠান। আইএফসি বগি বানানোর কাজটি টিকিয়ে রাখতে প্রাণান্ত চেষ্টা করছে তারা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে সব আইএফসি মডেলের বগি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এলএইচবি মডেলের বগি লাগানোর অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা নিয়েছিল রেল মন্ত্রণালয়। পাটনার দুর্ঘটনার পর সেই কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031