আইএস সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক কুর্দি–ডেনিশ নারীকে হত্যার প্রস্তাব দিয়ে পুরস্কার হিসেবে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে । জোয়ান্না পালানি নামের ওই নারী ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা ছেড়ে আইএস বিরোধী লড়াইয়ে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমানে ২৩ বছর বয়সী পালানি কারাগারে আছেন। খবর বিডিনিউজের।
আইন লঙ্ঘনের জন্য কোপেনহেগেনে পালানির বিচার হচ্ছে। তার অপরাধ, ২০১৫–র জুনে আরোপ করা ১২ মাসের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না মেনে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। ডেনমার্ক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে আইএসআইএসে (আইএস) যোগ দেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে আইনটি জারি করা হয়েছিল। রোববার থেকে শুরু হওয়া এ বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে পালানির সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা হতে পারে। ডেনমার্কে ফিরে আসার পর থেকেই পালানিকে অনলাইনে ও অন্যান্য মাধ্যমে বিদ্বেষপূর্ণ বার্তা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তাকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলো আইএস। আরব গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রোববার বেশ কয়েকটি ভাষায় পরিচালিত আইএসের সামাজিক গণমাধ্যম চ্যানেলগুলোতে পালানিকে হত্যার জন্য পুরস্কারের ঘোষণাটি আসে। গত বছর ডেনিশ কর্তৃপক্ষ পালানির পাসপোর্ট জব্দ করার কিছুক্ষণ পর ফেইসবুক পোস্টে পালানি বলেছিলেন, ‘ডেনমার্ক প্রশিক্ষণ দেয় এবং সমর্থন করে, আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করা এমন একটি সরকারি বাহিনীর সৈন্য হওয়ার মাধ্যমে আমি কীভাবে ডেনমার্ক ও অন্যান্য দেশের জন্য হুমকি হয়ে গেলাম?’ ইরানি কুর্দিস্তান থেকে পালানিদের পরিবার এসেছে। প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের রামাদি শরণার্থী শিবিরে তার জন্ম হয়। শিশু থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে তার পরিবার ডেনমার্কে চলে আসে। ২০১৪ সালে আইএসের প্রবল প্রতিপত্তির সময় সে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কুর্দি বিপ্লবী বাহিনীতে যোগ দেয়। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি পিপলস প্রটেকশন ইউনিটের (ওয়াইপিজি) হয়ে এবং উত্তর ইরাকে পেশমেরগা বাহিনীর হয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে পালানি। ফেসবুক পোস্টে পালানি জানিয়েছেন, ডেনিশ কন্যা হিসেবে ইউরোপীয় যে মূল্যবোধ অর্জন করেছেন তিনি তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে নারী অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন তিনি।
