সেদেশের প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইয়োহানিস রোমানিয়ায় প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিস সেলিভ শাইদেহকে মনোনয়ন দিয়েছিল দেশটির সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। কিন্তু সেই মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ক্লাউস। এতে সেখানে রাজনৈতিক সঙ্কটের সৃষ্টি হতে পারে বলে রিপোর্ট করেছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। শাইদেহ’র মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করায় প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তার দলীয় নেতা লিভিউ ড্রাগনিয়ে। এখন  সংবিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় একজন প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত করার সুযোগ আছে তার সামনে। তিনি যদি এমন কোনো প্রার্থীকে বেছে নেন তাহলে তাকে মেনে নিতে বাধ্য প্রেসিডেন্ট। যদি এর কোনোটিই না ঘটে তাহলে সেখানে আবারও নির্বাচন হবে।
সেভিল শাইদেহর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ক্লাউস বলেছেন, তাকে নিয়োগ করার পক্ষে ও বিপক্ষে যেসব যুক্তিতর্ক এসেছে সতর্কতার সঙ্গে তিনি সেগুলো যাচাই করেছেন। বলেছেন, এর পরেই তার মনোনয়ন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উল্লেখ্য, মিস শাইদেহ মুসলিম তারতার সংখ্যালঘু সদস্য। তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয় সোশাল ডেমোক্রেটিক পার্টি। এ মাসের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ দলটি বিশাল বিজয় অর্জন করে। তারা পায় শতকরা ৪৫ ভাগ ভোট। এরপরই শাইদেহকে মনোনীত করেন দলের নেতা লিভিউ ড্রাগনিয়া। তিনি নিজেই এ পদে আসীন হতে পারতেন। কিন্তু নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগের কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে যেতে পারছেন না। তাই তিনি সেভিল শাইদেহকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। অনেকে বলছেন, শাইদেহ’র মাধ্যমে সরকার চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন লিভিউ ড্রাগনিয়া। এই শাইদেহ’র মাত্র কয়েক মাসের সরকার বিষয়ক অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ক্লাউস ইয়োহানিস সোশাল ডেমোক্রেটদের ডেকেছিলেন। তাদেরকে বলেছেন সরকার চালাতে পারে এমন একজনকে বাছাই করতে। তবে কেন তিনি শাইদেহর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেন নি। এর আগে লিভিউ ড্রাগনিয়া রাজনৈতিক হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদে প্রেসিডেন্ট যাকেই বেছে নেবেন তিনি সেই বাছাই নিয়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তার ভাষায়, যদি প্রেসিডেন্ট ক্লাউস আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তাহলে আমি দ্বিতীয় প্রার্থী বাছাই করবো না। অন্য কোথাও আমরা একে অন্যকে দেখে নেবো। ওদিকে সেলিভ শাইদেহর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার পর লিভিউ ড্রাগনিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ক্লাউসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি। তার ভাষায়, (শাইদেহর মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে) প্রেসিডেন্ট নিজেই বরখাস্তের পথ পরিষ্কার করেছেন বলে মনে হচ্ছে। আমরা সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেবো। আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আমরা রাজনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করতে চাই না। কিন্তু যদি দেখা যায় প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই বরখাস্ত করতে হবে তাহলে তেমন পথ অনুসরণ করতে আমরা দ্বিধান্বিত হবো না। উল্লেখ্য, রোমানিয়ার সংবিধানের অধীনে এখন লিভিউ ড্রাগনিয়ের সামনে আর একটিমাত্র সুযোগ আছে। তা হলো তিনি অন্য আরেকজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন। দ্বিতীয় এমন যে প্রার্থীকে তিনি মনোনীত করবেন অবশ্যই তাকে মেনে নিতে হবে প্রেসিডেন্টের। যদি সেটা না হয় তাহলে রোমানিয়ায় আরেকটি নির্বাচন হবে। মনোনয়ন প্রত্যাখ্যানের আগে মিস শাইদেহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে প্রথম মুসলিম নেত্রী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি হতেন রোমানিয়ায় প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীও। শাইদেহ একজন অর্থনীতিবিদ। এর আগে সোশাল ডেমোক্রেট নেতৃত্বাধীন সরকারে আঞ্চলিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এর বাইরে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। এমন একজন প্রার্থীকে লিভিউ ড্রাগনিয়ে বাছাই করায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক ভাষ্যকাররা তার থেকে অভিজ্ঞ, দলে অধিক সিনিয়র কাউকে ওই পদে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কাউকে মনোনীত না করে লিভিউ বেছে নিয়েছেন শাইদেহকে। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে যে, লিভিউ এমন কাউকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে চাইছেন যাকে তার জন্য নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031