বাড়ি ফেরা হলো না তাদের। বাগেরহাট থেকে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন মা মেয়েসহ কয়েকজন। গতকাল তাদের ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাড়ির পরিবর্তে তারা চলে গেলেন পরপারে। গতকাল বিকেল তিনটার দিকে নগরীর মুরাদপুরস্থ ষোলশহর পিলখানা রেল ক্রসিংয়ে তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশার সাথে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে আসা শাটল ট্রেনের ধাক্কা লাগে। এতে দুমড়ে মুচড়ে যায় অটোরিকশাটি। নিহত হন বাগেরহাট জেলার মরিয়ম বেগম (৬০) ও তার মেয়ে আফরিন (১৭)। এ ঘটনায় অটোরিকশা আরোহী আয়েশা বেগম () ও মনি বেগমও (৫৫) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাস থেকে দুপুর আড়াইটার নগরমুখী ট্রেনটি বিকেল তিনটা পাঁচ মিনিটের দিকে ষোলশহর রেল স্টেশন সংলগ্ন ফরেস্ট গেইট এলাকায় পৌঁছে। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশা দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করলে ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে সেটি অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। পরবর্তীতে শাটল ট্রেনের গতি কমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

স্বজনদের বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি শহীদুল ইসলাম আজাদীকে জানান, নিহতরা বাগেরহাট থেকে চট্টগ্রামে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। বেড়ানো শেষে বাগেরহাট ফিরতে তারা অলংকার বাস স্টেশনে যাচ্ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছেড়ে আসা শাটল ট্রেনটি রেল গেইট অতিক্রমের সময় যাত্রীবাহী সিএনজি অটো রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মরিয়ম বেগম মারা যান। আহত তিন জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার মেয়ে আফরিন মারা যান।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, আহত দুইজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তিনি আরো জানান, স্বজনরা জানিয়েছেন, অরক্ষিত ওই ক্রসিংয়ে কোনো গেইটম্যান নেই, যানবাহনসহ পথচারীদের নিজ দায়িত্বে রেললাইন অতিক্রম করতে হয়।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031