শনিবার সন্ধ্যায় এমপি’র নিজ বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়।গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রমেক হাসপাতালের আইসিইউ-এর ৫ নম্বর বেডে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। এমপি লিটনের সঙ্গে থাকা ধোবাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সুজা তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এলাকবাসী সূত্রে জানা যায়, আজ সন্ধ্যার আগে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তার বাড়িতে বসেছিলেন। তখন বাড়ির পুর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি এমপির সঙ্গে দেখা করতে চায়। এসময় লিটনের কোল্ড ষ্টোরেজের ম্যানেজার অনিল সাহা তাদের কাছে সাক্ষাতের কারন জানতে চান। ম্যানেজার অনিল এমপির ঘরে ঢুকতেই ওই দুর্বৃত্ত ঘরের দিকে এগিয়ে গিয়ে শরীরে লুকানো পিস্তল দিয়ে পরপর এমপি’র বুকে গুলি করেন। অপর এক দুর্বৃত্ত মটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গুলি করে তিন দুর্বৃত্ত দ্রুত দক্ষিণের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি পাশের বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পর ম্যানেজার অনিল সাহার চিৎকারে তার স্ত্রীসহ ড্রাইভার ও লোকজন এসে ঘরের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিটনকে পড়ে থাকতে দেখেন। নিজের গাড়িতে করে লিটনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেক পোস্ট বসানো হয়। তল্লাশী করা হচ্ছে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও সুন্দরগঞ্জের বিশেষ কিছু জায়গায়।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, এই মুহুর্তে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা বলা মুশকিল। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা ও কোন ঘটনার সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে চেষ্টা করছে পুলিশ।
২০১৫ সালের ২ অক্টোবর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় এক শিশুকে গুলি করে সারা দেশে সমালোচনার মুখে পড়েন এমপি লিটন। তিনি লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সৌরভকে গুলি করেন। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর এমপি লিটনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ৬ অক্টোবর আরেকটি মামলা করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমান। এর পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন এমপি লিটন। ওই বছরই আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। পরে জামিনে মুক্তি পান।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
