কিশোর-তরুণদের এই কিলিং মিশনে অনিকের সঙ্গে ১৮-২০ জন অংশ নেয়।নাঈমুর রহমান অনিকের নেতৃত্বেই আদনানকে হত্যা করা হয়। তাদের প্রত্যেকের হাতেই ছিল লাঠিসোটা, রড। তবে অনিকসহ কয়েকজনের হাতে ছিল হকিস্টিক ও চাপাতি। রাজধানীর উত্তরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই পাল্টাপাল্টি হামলার জের ধরে হত্যা করা হয় স্কুলছাত্র আদনান কবিরকে।
গতকাল এ বিষয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী মেহরাব হোসাইন। তার আগে সোমবার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর নাফিজ মো. আলম ও সাদাফ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে নাফিজ মো. আলমকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নাফিজের কাছ থেকেই মেহরাব হোসেনসহ এজাহারে অজ্ঞাত থাকা সব হামলাকারীর নাম-ঠিকানা পেয়েছে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মেহরাবকে। গ্রেপ্তারের পর রাতেই আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হয় মেহরাব।
গতকাল দুপুরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় মেহরাব। বিচারক আমিরুল হায়দার চৌধুরী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এক পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে মেহরাব জানিয়েছে, আদনানকে হত্যার কিছুদিন আগে আদনানসহ তার নাইন স্টারের গ্রুপের বন্ধুরা ডিসকো গ্রুপের সাদাফ জাকিরকে মারধর করে। এ ঘটনার পর থেকেই আদনান ও তার বন্ধুদের উচিত শিক্ষা দিতে প্রস্তুত ছিল ডিসকো গ্রুপের সদস্যরা। ঘটনার দিন ডিসকো গ্রুপের ১৮-২০ জন সদস্য ১৩ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠ এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় নাঈমুর রহমান অনিকের হাতে হকিস্টিক ছিল। অন্য সবার হাতেই রড, লাঠি-সোটা ছিল। সাদাফ জাকিরের হাতে ছিল চাপাতি। হামলাকালে আদনানের বন্ধুরা দৌড়ে চলে গেলেও আদনানকে তারা ১৭ নম্বর সড়কে আটকে করে মারধর করে। এ সময় হকিস্টিক দিয়ে আদনানকে আঘাত করে নাঈমুর রহমান অনিক। চাপাতি দিয়ে আঘাত করে সাদাফ জাকির। এছাড়াও অন্যরা লাঠি, সোটা ও রড দিয়ে আদনানকে আঘাত করে। আঘাতে এক সময় আদনান নিস্তেজ হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শাহীন জানান, এক পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের অংশগ্রহণের দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে মেহরাব। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল সে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পেয়েই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের পরিচয় পাওয়া গেছে জানিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হবে। আদনানের লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আদনানের মাথায় চাপাতির আঘাত গভীর ছিল। এছাড়াও তার মাথায় হকিস্টিকের একাধিক আঘাত ছিল। মাথায় আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার মেহরাব উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৪৬ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। উল্লেখ্য, গত ৬ই জানুয়ারি উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর সড়কে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা করা হয় ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরকে। এ ঘটনায় আদনানের পিতা ব্যবসায়ী কবির হোসেন বাদী হয়ে মামলা করার পরপরই নাফিজ মো. আলম ও সাদাফ জাকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও গ্রুপিং তৎপরতার জের ধরেই আদনানকে হত্যা করা হয়। নিহত আদনান নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ডিসকো বয়েজ গ্রুপ উত্তরার সদস্য।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
