আদালত সিলেটের তারাপুর চা বাগান বন্দোবস্ত নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ১৪ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন । একইসঙ্গে তাদের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান হিরো বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিকে মোট চারটি ধারায় তাদের এই দণ্ড প্রদান করেন।
আদালতের পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ জানান, ঘোষিত রায়ে আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ৪৬৪ ও ৪৬৮ ধারায় ৬ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া ৪২০ ও ৪৭১ ধারায় আরো এক বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সবমিলিয়ে তাদের দুজনের ভাগে পড়েছে ১৪ বছরের কারাদণ্ড। পাশাপাশি প্রতিটি ধারায় ১০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দেয়া হয়েছে। জরিমানা না দিলে আরো ১ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এর আগে এ মামলায় বুধবার যুক্তিতর্ক শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ঠিক করে দিয়েছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বুধবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিনে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতের উপর আপত্তি জানিয়ে তাদের ওকালতনামা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। আদালত সে আবেদন নামঞ্জুর করে যুক্তিতর্ক শুরু করেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ও অ্যাডভোকেট মঈনুল ইসলামের কেউই যুক্তিতর্কে অংশ নেননি। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে পরের দিনটিকেই রায়ের জন্য ঠিক করে দেন আদালত।
প্রসঙ্গত, সিলেটের তারাপুর চা বাগানের প্রায় হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন রাগীব আলী। উচ্চ আদালত ৬ মাসের মধ্যে চা বাগানটি দখলমুক্ত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে চা বাগান ধ্বংস করে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনাও দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ১৫ই মে বাগানটি রাগীব আলীর দখলমুক্ত করে সেবায়েত ডা. পঙ্কজ কুমার গুপ্তের কাছে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। তবে বাগান এলাকায় গড়ে ওঠা মেডিকেল কলেজ, হোস্টেল ও আবাসিক স্থাপনার দখল রাগীব আলীর কাছেই থেকে যায়। আদালতের নির্দেশে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির দায়ে থাকা দুটো মামলাও সচল হয়। ২০০৫ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দুটো করেছিলেন।  এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি মামলায় ১০ই জুলাই রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আলোচিত এ দুটি মামলায় ১০ই আগস্ট শিল্পপতি রাগীব আলী ও বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গ্রেপ্তার এড়াতে ঐদিনই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান রাগীব আলী। ২৩শে নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাকে দেশে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১২ই নভেম্বর ভারত থেকে দেশে ফেরত আসার সময় মামলার আরেক আসামি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইকে আটক করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031