অবুঝ এই দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় হতবাক সবাই। মানিকগঞ্জের শিবালয় ও ঘিওরে  নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে সাব্বির ও দুরন্ত নামের দুই শিশু। এদের একজনের বয়স ৮ এবং আরেক জনের ৭।পারিবারিক কোন্দলের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড বলে নিহতের পরিবারের দাবি।  নিখোঁজের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গতকাল সকালে দুই শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের  জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে। এ ঘটনায় দুই পরিবারের মাঝে বইছে শোকের মাতম।
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ৭ বছরের পুত্র দুরন্ত। সে স্থানীয়  বৈকুণ্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্র। গতকাল শুক্রবার ছিল তার জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে  বাড়িতে
ছোটখাটো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু বাবা-মা’র সেই ইচ্ছায় গুড়েবালি। বৃহস্পতিবার বিকালে নিখোঁজ হয় দুরন্ত। পরিবারের লোকজন বিকাল থেকে সারা রাত দুরন্তের খোঁজে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। কোথায়ও কোনো সন্ধান মিলেনি অবুঝ শিশুটির। শেষমেশ শুক্রবার সকালে মিললো দুরন্তের দেখা। জীবিত নয়, মৃত। এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে শরীরে কাপড় পেঁচানো মাটিতে পড়ে থাকা দুরন্তের লাশ দেখতে পায় স্থানীয় মানুষজন। স্তব্ধ হয়ে যায় সবাই। দুরন্তের নানা ইউনুস আলী জানান, মাত্র আড়াই শতাংশ জমি নিয়ে দুরন্তের বাবা শহিদুলের সঙ্গে প্রতিবেশী ধনাঢ্য ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন ও রাশুর বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের বলি হলো শিশু দুরন্ত। তিনি অভিযোগ করে জানান, লাশ উদ্ধারের সময় দুরন্তের হাত-পা বাঁধা ছিল। লাশটি স্যালোয়ার কামিজের কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। এছাড়া লাশের পাশে একটি ধারালো চাকুও ছিল। স্বজন ইউনুস আলীর দাবি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের বাড়ির কোনো এক মহিলার কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে দুরন্তকে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই দুরন্তকে হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে এই অবুঝ শিশুকে কেউ হত্যা করতে পারে না। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দুরন্তকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে এটা পরিষ্কার। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে নিহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
এদিকে শিবালয় উপজেলার নিহালপুর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার বিকালে নিখোঁজ হয় স’মিলের দিনমজুর বাসু শেখের একমাত্র সন্তান সাব্বির হোসেন (৮)। নিহত সাব্বির নিহালপুর কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের লোকজন রাতভর অনেক খোঁজাখুঁজি এবং এলাকায় মাইকিং করেও সাব্বিরের কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না। শুক্রবার সকালে আরিচা পুরাতন ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় যমুনা নদীর পাড়ে বালুর ভেতর অর্ধদেহ বের অবস্থায় শিশুটির লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের দাবি পরিকল্পিত ভাবে গলাটিপে হত্যার পর বালুর মধ্যে পুঁতে রাখা হয়েছে। শিশুটির লাশ পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে শোকের মাতম চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের পাশের বাড়ির দুইজনকে থানায় আনা হয়েছে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, কি কারণে মাত্র আট বছরের শিশু সন্তানকে হত্যা করা হলো তার তদন্ত চলছে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বিপিএম জানান, শিবালয়ের শিশু সাব্বির ও ঘিওরে শিশু দুরন্ত  হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডই মর্মান্তিক।  আশা করি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031