বিশ্ব কাঁপিয়ে দেয়া ব্রেক্সিট বিষয়ক লিসবন চুক্তির ৫০ অনুচ্ছেদ কবে নাগাদ সক্রিয় হচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে শুধু ইউরোপ নয়। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্চ মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই তিনি ৫০ অনুচ্ছেদ সক্রিয় করবেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ তিনি ঘোষণা করেন নি। ওদিকে বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বৃটিশ মিডিয়া বলছে, আজ সোমবার হাউজ অব কমন্সে এ সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করা হবে। বিলটি অনুমোদন করলে তা উত্থাপন করা হবে হাউজ অব লর্ডসে। ফলে মঙ্গলবার তিনি অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করতে পারেন। তবে অনলাইন স্কাই নিউজ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, এ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র ব্রেক্সিট বিষয়ক বিল সক্রিয় করার সম্ভাবনা ৫০/৫০। স্কাই নিউজের সিনিয়র পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট বেথ রিগবি লিখেছেন, আজ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের আনুষ্ঠানিক সমঝোতা প্রক্রিয়ার আইনী বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্টে একটি মাইলস্টোন স্থাপন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে বৃটেনের ‘ব্রেক্সিট সড়ক’ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড ডেভিস এমপিদের উৎসাহিত করেছেন, ব্রেক্সিট বিষয়ক বিলকে অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিতে, যদিও হাউজ অব লর্ডস এ বিলে দুটি সংশোধনী এনেছে। এ বিলটির নাম দেয়া হয়েছে, ইইউ নোটিফিকেশন অব উইথড্রয়াল বিল। হাউজ অব লর্ডসের দুটি সংশোধনী সহ বিলটি আজ সোমবার হাউজ অব কমন্সে তোলা হচ্ছে। ওই দুটি সংশোধনীতে বৃটেনে বসবাসরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধনীতে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের বিষয়ে পার্লামেন্টকে অর্থপূর্ণ একটি ভোট করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সরকারের বিরোধিতা বা এ বিলের ওপর ভোট দান থেকে কনজার্ভেটিভ দলের অল্প কয়েকজন সদস্য রয়েছেন হাউজ অব লর্ডসে। এর অর্থ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে’র জন্য সামনের পথ খোলা। অর্থাৎ বিলটি সংশোধনী ছাড়াই পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ গ্রহণ করতে পারে। ওদিকে হাউজ অব লর্ডসে লেবার সূত্রগুলো বলেছেন, সোমবার এ বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ থেকে পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ। দৃশ্যত আজ রাতেই প্রধানমন্ত্রী অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করার ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন। তাহলে তিনি তা কখন সক্রিয় করছেন? সরকারের এক সূত্র ও ব্রেক্সিট সমর্থক স্কাই নিউজকে বলেছেন, তারা বিশ্বাস করেন এ সপ্তাহে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করার সম্ভাবনা ৫০/৫০। ওদিকে ১৫ই মার্চ নেদারল্যান্ডসে নির্বাচন। স্কটল্যান্ডের ন্যাশনালিস্ট পার্টির বসন্তকালীন সম্মেলন সামনেই। এসব কারণে কিছুটা বিলম্বিতও হতে পারে তেরেসার ব্রেক্সিট ইস্যু। যদি প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে আগামী বুধবার নেদারল্যান্ডসে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করেন তাহলে তাতে কূটনৈতিক হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। মনে করা হতে পারে, নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করছে বৃটেন। ব্রেক্সিটের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান দেশটির উগ্র ডানপন্থি দল পার্টি ফর ফ্রিডম নেতা গির্ট উইলডার্স। নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। ফলে যদি মঙ্গলবার নির্বাচনের আগের দিন অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা হয় তাহলে ধরে নেয়া হতে পারে যে, বৃটেন তাকে সহযোগিতা করছে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জেনকে নিয়ে উদ্বেগে আছেন তেরেসা মে। নিকোলা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোটের দাবি তুলেছেন। শনিবার এসএনপির বসন্তকালীন সম্মেলন। তার আগে যদি অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা হয় তাহলে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, পুরো দলকে তখন একসঙ্গে পাবেন নিকোলা। তিনি সম্মেলন থেকে কঠোর কোনো অবস্থান নিতে পারেন। তাই এসব ইভেন্টে রশদ যোগাতে চাইছেন না তেরেসা মে। যদি তা-ই না হয় তাহলে অনুচ্ছেদ ৫০ সক্রিয় করা বিলম্বিত হতে পারে।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
