বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীরা আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের সদস্য- আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্নের এমন তথ্য উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই হামলায় আইএস এর কোন  সম্পৃক্ততা নেই। রোহান গুনারত্নে যে কথা বলেছেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

সোমবার রাজধানীতে ১৪ দেশের পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন এই কথা বলেন আইজিপি।

রবিবার রাজধানীর হোটেলে সোনারগাঁয়ওয়ে তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয়। এর নাম রাখা হয়েছে চিফস অব পুলিশ কনফারেন্স অব সাউথ এশিয়া অ্যান্ডে নেইবারিং কান্ট্রিস। সম্মেলনে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভূটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, ভিয়েতনামের পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সম্মেলনের প্রথম দিন আইএস এর বিষয়ে সতর্ক থাকতে বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্নে। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারীরা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘আইএস’ সদস্য ছিলেন বলে মত তেন তিনি।

হামলাকারীরা আইএস-এই বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হলেন, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে গুনারত্নে বলেন, ‘পুরনো জেএমবির দর্শন পরিবর্তন হয়েছে। এখন তাদের আদর্শ আইএস। ফলে এখন তাদেরকে আমরা আর জেএমবি বলতে পারি না। তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। তারা আইএসের সঙ্গে তথ্য আদান প্রদান করছে। বাংলাদেশ সরকার একে জেএমবি বলেছে কারণ, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বাস করে এটা জেএমবি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি এ হামলা আইএস চালিয়েছে।’

ওই হামলায় ১৭ বিদেশি এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ মোট ২২ জনকে হত্যা করা হয়। এই হামলার পর পরই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করে। এর কয়েক মাস আগে থেকেই বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতার তথ্য প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে। এমনকি বাংলাদেশে আইএসের কথিত প্রধানের সাক্ষাৎকারও ছাপা হয়। তিনি কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি, তার বাড়ি সিলেট এবং তিনি ‘জিহাদ’ করতে বাংলাদেশে এসেছেন-এমন তথ্য প্রকাশ হয় গণমাধ্যমগুলোতে।

তবে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী নয়, দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী নব্য জেএমবি এই হামলায় জড়িত। আর বাংলাদেশে আইএসের সন্দেহভাজন প্রধান হিসেবে নাম আসা তামিম চৌধুরীকে নব্য জেএমবির আমির বলে জানায় পুলিশ।

আর্টিজান হামলার নাটের গুরু হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত জাহিদুল ইসলাম পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে। পুলিশের হাতে আটকও হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

আইজিপি বলেন, ‘যেসব জঙ্গি ধরা হয়েছে তারা তো স্বীকার করেনি যে তারা আইএস এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আইএসও স্বীকার করেনি যে তাদের লোক মারা গেছে।’ আইজিপি বলেন, ‘তারা হয়তো আইএস এর ফিলোসফিতে (দর্শন) বিশ্বাস করতে পারে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে তাদের সাথে বিচরণ থাকতে পারে, কিন্তু  সরাসরি আইএস-এর সাথে কোন সম্পৃক্ত নেই।’

গুনারত্নে সম্পর্কে আইজিপি বলেন, ‘তিনি কোন পুলিশ অফিসার নন, তিনি একজন একাডেমিশিয়ান।’

আইজিপি বলেন, এই সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় কীভাবে এক দেশের সঙ্গে অন্যে দেশের সহযোগিতা বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গেও বসার কথা জানান আইজিপি। বলেন, ‘ইন্টারপোলের সাউথ এশিয়ান হাব বাংলাদেশে করা যায় কি-না সে বিষয়ে আলোচনা করবো।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জঙ্গিসংগঠনগুলোর বিচরণ ঠেকাতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা জানান আইজপি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930