মমতাকেও দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার নয়াদিল্লি চাইছে এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালে দিল্লিতে বৈঠক হোক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে। আর তাই শেখ হাসিনার সফরের সময়। তবে আমন্ত্রণ পেলে যাবেন কি না, তা নিয়ে দোটানায় রয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তার কাছে এটা শাঁখের করাত। না গেলে সেটা দিল্লি-পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কের টানাপোড়েন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কী বলবেন? আর গেলেই বা তিস্তা নিয়ে কী বলবেন?
২০ মার্চ সোমবার ‘হাসিনা-মমতা বৈঠক চায় নয়াদিল্লি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে দৈনিক ইত্তেফাক।
কয়েকদিন ধরে দিল্লি-পশ্চিমবঙ্গ বোঝাপড়ার যে সঙ্কেত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে মমতা ব্যানার্জি দিয়েছেন সেকথা বিবেচনায় আনলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যদি দিল্লির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন তাহলে তা অন্যমাত্রা পাবে বলে মনে করছেন ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এপ্রিলের ৭ তারিখে চার দিনের ভারত সফরে আসছেন শেখ হাসিনা। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, সে সময় পশ্চিমবঙ্গসহ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পাঁচটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নয়াদিল্লিতে আমন্ত্রণ জানাবে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও রয়েছে মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম।
তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নয়াদিল্লির আমন্ত্রণ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত দিল্লি আসবেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার সফরের এখনো বেশ খানিকটা দেরি রয়েছে। আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও এখনো আসেনি। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবর্তে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি যদি এই আমন্ত্রণ জানান, তাহলে আমন্ত্রণ গ্রহণ সহজ হলেও হতে পারে। কারণ ভারতের রাষ্ট্রপতির আতিথ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে থাকবেন।
এদিকে সাউথ ব্লকের একটি সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও ভারত-বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিস্তার বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হবে। সেক্ষেত্রে যার সম্মতি না মেলায় এই চুক্তি হচ্ছে না সেই মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসলে কিছুটা অগ্রগতি হলেও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ২০১৫ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের সময় অআনুষ্ঠানিক ভাবে যেরকম হাসিনা-মমতা-মোদী বৈঠক হয়েছিল সেরকম কিছুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
