এক মাজারের তত্ত্বাবধায়ক সেখানকার ২০ ভক্তকে হত্যা করেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের। পুলিশ জানিয়েছে এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই ব্যক্তি সহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, আলি মুহাম্মদ গুজ্জার মাজারের তত্ত্বাবধায়কের নাম আব্দুল ওয়াহিদ। শনিবার রাতে তিনি মাজারে আসা ভক্তদের চেতনানাশক ঔষুধ প্রয়োগ করে তাদের লাঠি দিয়ে প্রহার করে এবং কুপিয়ে হত্যা করে। পরে সে নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পন করে। লাহোরের ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে সারগোদা শহরের অদূরে একটি গ্রামে মাজারটি অবস্থিত। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা শওকত মানজুর বলেন, ‘মাজারে সে সময় উপস্থিত প্রত্যেকের ওপর চেতনানাশক প্রয়োগ করেছে যে। কেউই বেঁচে নেই।’ তিনি আরও বলেন, হত্যাকারী ওয়াহিদকে মানসিক ভারসাম্যবিহীন বলে মনে হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের প্রধানর শমসের খান বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌছুলে দেখতে পান ওয়াহিদ মাজারের বাইরে বসে আছে। তিনি বলেন, ‘তার হাতে রক্তাক্ত একটা ড্যাগার ছিল। সে আমাদের তার কাছে যেতে নিষেধ করে। অন্যথায় সে আমাদের ওপর হামলা চালাবে বলে হুশিয়ারি দেয়। তবে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। তার সঙ্গে বাইরে বসে থাকা আরও দুজনকেও গ্রেপ্তার করি।’ শমসের খান বলেন, ‘পুরো মাজার জুড়ে মরদেহ পড়ে ছিল। ২০ জনের মধ্যে তিনজন ছিলেন নারী এবং ১৭ জন পুরুষ।’
গ্রেপ্তারকৃত অপর দুজন হলেন জাফর আরি ও সানাউল্লাহ। পুলিশ ধারণা করছে তারা ওয়াহিদের সহযোগী। তাদের সঙ্গে পাকিস্তানি তালেবানের মতো কোন জঙ্গি গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয় পুলিশ। প্রসঙ্গত তালেবানরা প্রায়ই মাজার ও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে হামলা করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার পারাচিনার শহরে পাকিস্তানি তালেবানের জামাত-উর-আহরার নামক অংশ শিয়া মুসলিমদের একটি মসজিদে হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের অন্যতম সুপরিচিত একটি মাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণহানি হয় ৮৮ জনের। এই হামলা দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। ২০১৪ সালে পেশওয়ারের সামরিক স্কুলে হামলার পর এটাই ছিল পাকিস্তানে সবথেকে বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলা।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031