একটি পাতাল রেলস্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের। এতে অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছে বলে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে।
রাশিয়ার জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কমিটি জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে সেনাইয়া প্লোশাড ও টেকনোলজিশেস্কি ইনস্টিটিউট নামের দুটি স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
কমিটি আরও জানায়, অন্য আরেকটি স্টেশন থেকে একটি বিস্ফোরক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
রুশ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ ফেসবুকে পোস্টে বলেছেন, বিস্ফোরণের ঘটনা একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’।
একটি সন্ত্রাসবিরোধী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে অন্যান্য সম্ভাব্য কারণও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রথম প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টেকনোলজিশেস্কি ইনস্টিটিউট স্টেশনে ট্রেনের এক বগির দরজা বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। আশপাশে ছড়িয়ে আছে রক্তাক্ত দেহ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে দুটি স্টেশনে জোড়া বিস্ফোরণের খবর দিলেও পরে স্থানীয় কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের ঘটনা একটি বলে নিশ্চিত করেন।
বিস্ফোরণের ঘটনার মুহূর্তে বেলারুশের নেতা আলেক্সান্দর লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পুতিন ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুতিন বলেন, ‘বিস্ফোরণের কারণ এখনো সুস্পষ্ট নয়। এ সম্পর্ক এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পরই সব জানা যাবে। ঘটনাটি সন্ত্রাসী হামলা নাকি অন্য কিছু- আমরা সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছি।’
জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থা জানায়, সেন্ট পিটার্সবার্গের সব মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে সব যাত্রীদের রেল স্টেশন থেকে বের করে দেয়া হয়। সম্ভাব্য হামলা এড়াতে শহরটিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে ২০১০ সালে মস্কোর মেট্রোরেলে দুই নারীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় ৩৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তার আগে ২০০৪ সালে চেচেন জঙ্গিরা একটি স্কুলে জিম্মি সঙ্কট তৈরি করলে পুলিশের অভিযান শেষে ৩৩০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়, যাদের অর্ধেকই ছিল শিশু। এর দুই বছর আগে মস্কোর একটি থিয়েটার হলে দর্শকদের জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা; ওই ঘটনায় নিহত হন১২০ জন।
