বিশ্বব্যাপী নারী ও কন্যা শিশুদের জন্য একটি ভয়াবহ খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণাকে।

আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এই সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে সে সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় যাওয়ার আগে যেসব তহবিলে অর্থ বন্ধ করে দেয়ার যেসব প্রতিশ্রুতি করেছিলেন, এটি তার মধ্যে প্রথম। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, এই তহবিল গর্ভপাত এবং চীনে অনিচ্ছাকৃত বন্ধ্যা-করণের মতো কাজে সহায়তা করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৭ সালের আর্থিক বছরে তিন কোটি ২৫ লাখ ডলার অনুদান প্রত্যাহার করে নেবে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন আগেই জাতিসংঘে তাদের আর্থিক অনুদান কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। বছরের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী গর্ভপাতের সেবা ও পরামর্শ দেয় এমন যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সহায়তা নিষিদ্ধ করে ট্রাম্প সরকার।

তবে এই তহবিল বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোন মার্কিন প্রশাসনের এটিই প্রথম সিদ্ধান্ত নয়। এর আগে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, জর্জ বুশ এবং তার ছেলে জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়েও একই কারণে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলে অর্থ সহায়তা দেয়া বন্ধ রেখেছিল মার্কিন সরকার।

জাতিসংঘের বেশ কিছু সংস্থার মতো জনসংখ্যা তহবিলও বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের সরকারের দেয়া অর্থ সহায়তায় পরিচালিত হয়। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলে চতুর্থ দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র। শুধুমাত্র এ বছরেই এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের দেবার কথা ছিল ৩২ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বের ১৫০টি দেশে পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা রোধের মতো নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সংস্থাটি। ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ৯৭৯ মিলিয়ন ডলার আর্থিক অনুদান লাভ করে।

চলতি বছর শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্ভপাতবিরোধী এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, গর্ভপাত সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তা করে এমন কোনো এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুদান দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031