মিশরে আজ রবিবার দুটি কপটিক গির্জায় পৃথক বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন।
রবিবার আলেকজান্দ্রিয়ার সেন্ট মার্ক কপটিক গির্জায় দ্বিতীয় বোমা বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১১ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়। কপটিক চার্চ প্রধান পোপ দ্বিতীয় তাওয়াদ্রস এ সময় গির্জার ভেতরে ছিলেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, পোপ তাওয়াদ্রস অক্ষত আছেন। তার ব্যক্তিগত সচিব বলেছেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী গির্জার বাইরে থেকে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
এর আগে মিশরের রাজধানী কায়রোর উত্তরে নীল নদের তীরবর্তী শহর তানতা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সেন্ট জর্জ গির্জায় এক বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছন। এখন পর্যন্ত হামলা দুটির দায় কেউ স্বীকার করেনি।
তানতার গির্জায় প্রথম বিস্ফোরণের পর প্রাদেশিক গভর্নর আহমেদ দেইফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিল নিউজ চ্যানেলকে বলেন, ‘সেখানে আগে থেকে বোমা পেতে রাখা হতে পারে কিংবা আত্মঘাতী বিস্ফোরণও ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।’
প্রথম হামলার পর আশ-পাশের এলাকায় আরও বিস্ফোরক থাকতে পারে এই আশঙ্কায় তল্লাশি চালানো শুরু হয়।
সাম্প্রতিক বছরে কপটিক খ্রিস্টানদের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে যখন সামরিক বাহিনী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে উৎখাত করে এবং ইসলামী চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে।
মিসরের ৯ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে ১০ ভাগের এক ভাগ কপটিক খ্রিষ্টান। আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ইস্টার সানডে। এ ছাড়া ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের কায়রো সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
জিহাদি ও ইসলামপন্থীদের অভিযোগ, ২০১৩ সালে ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সেনাবাহিনীকে কপটিক খ্রিষ্টানেরা সহায়তা করেছে।
গত ডিসেম্বরেও কায়রোতে গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ২৯ জন নিহত হয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট কায়রোতে মুরসিপন্থীদের দুটি ক্যাম্পে নিরাপত্তা বাহিনী ভয়াবহ হামলা চালায়। এর দুই সপ্তাহ পর দেশটিতে ৪০ টির বেশি গির্জায় হামলার ঘটনা ঘটে।
