ইমান আহমেদ আবদুলাতির ওজন যতটুকু কমেছে বলে চিকিৎসকেরা দাবি করছেন, ততটুকু কমেনি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বোন সায়মা সেলিম। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকেরা ইমানের ওজন কমা নিয়ে যা দাবি করেছেন, সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে সায়মার এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি মিসর থেকে বিশেষ বিমানে করে মুম্বাইয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় বিশ্বের সবচেয়ে স্থূল নারী ইমান আহমেদ আবদুলাতিকে। তখন তাঁর ওজন ছিল ৫০০ কেজি। মার্চে মুম্বাইয়ের সাইফি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর ওজন ২৫০ কেজি কমান চিকিৎসকেরা।

তবে ইমানের চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন তাঁর বোন সায়মা। আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সায়মা বলেন, ‘অপারেশনের আগে ও পরের ওজন মাপাই হয়নি ইমানের। যদি চিকিৎসকের কাছে তাঁর ওজন কমেছে—এমন প্রমাণ থাকে, তাহলে তাঁর আগের ও পরের অবস্থার ভিডিও আমাদের দেখাক।’

তাঁর বোনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সায়মা বলেন, তাঁর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক নেই। তাঁকে প্রায় সব সময় কৃত্রিম অক্সিজেন নিতে হয়। ইমানের নাক থেকে পাকস্থলী পর্যন্ত একটি টিউব বসানো আছে। কারণ, সে নিজে মুখ দিয়ে খেতে ও পান করতে পারে না। সায়মা বলেন, ‘চিকিৎসকেরা আমাকে জানান, ফিজিওথেরাপি এবং পুনর্বাসনের জন্য ইমানকে হাসপাতালে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।’

সায়মার দাবি, ইমান এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। যেকোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে তাঁর। এ অবস্থায় তাঁকে বাড়িতে নিয়ে গেলে ফের যদি কোনো সমস্যা হয় তা হলে অথই জলে পড়তে হবে তাঁদের। ইমানকে আরও বছর খানেক হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। গত সোমবার ইমানের একটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায়, এখনো ঠিকভাবে নড়াচড়া করতে পারেন না ইমান। কথা বলতে পারেন না।

তবে হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, গত সোমবারই ওজন মাপা হয়েছে ইমানের। ওজন এখন ১৭২ কেজি। গত মার্চে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ইমানের পাকস্থলীর আকার কমান চিকিৎসকেরা। তাঁর জিনগত কিছু সমস্যা আছে, যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব নয় বলেও জানান চিকিৎসকেরা। বর্তমানে তাঁর নিউরো চিকিৎসার প্রয়োজন বলে পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ইমানের মেডিকেল রিপোর্ট বলছে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। এরপরও সায়মা কীভাবে এমন অভিযোগ তুলতে পারেন?

ইমানের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মুফজ্জল লাকড়াওয়ালা এক টুইটার বার্তায় বলেন, স্থূলতার কারণে আর মৃত্যু হবে না ইমানের। চিকিৎসা সঠিকভাবে করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, সব রকম চিকিৎসা করার পরেও হাসপাতালের বদনাম করতে চাইছেন সায়মা। কেননা, মিসরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য নেই তাঁদের। তাই এ পথটাই বেছে নিয়েছেন তিনি।’ সায়মার এ ধরনের আচরণে হাসপাতালের সব কর্মী হতাশ বলেও জানান লাকড়াওয়ালা। সূত্র: বিবিসি।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031