পাহাড়ি স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ফটিকছড়ি উপজেলার নাছেহা চা-বাগানের ১৯ শ্রমিক পরিবারকে জিম্মি করে রেখেছে । বাঙ্গালী মুসলিম ছেলের সাথে ত্রিপুরার মেয়ের পালিয়ে বিয়ের জের ধরে ১৯ ত্রিপুরা পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু মিলে ৭৪ জন গত এক সপ্তাহ যাবৎ গহীন জঙ্গলে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি রয়েছে বলে জানা গেছে। জিম্মি হওয়া পরিবারগুলো মুঠোফোনের মাধ্যমে তাদের উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।

বুধবার (আজ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দাঁতমারা উইনিয়নের নাছেহা চা-বাগানের সোনারখীল এলাকার চা-শ্রমিক তশিরামের কন্যা শব্দমালা ত্রিপুরা (২০) পাশ্ববর্তি হাক্কিটিলার সুরত আলীর ছেলে আরিফের সাথে গত ১৫ এপ্রিল পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। উভয় পরিবারের মধ্যে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহন করলেও পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা তা মানতে নারাজ।

ঘটনার ৬ দিন পর ২১ এপ্রিল সকালে পাড়ার মাতব্বরকে নিয়ে শব্দমালা ত্রিপুরার বাবা-মাকে তাদের আস্তানায় যাওয়ার জন্য বলে যায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। ওই দিন বাবা-মাসহ চারজন সেখানে গেলে তাদের আটক করে রাখা হয়। একই সাথে তাদেরকে ওই এলাকার ত্রিপুরা ধর্মাবলম্বী সকল পরিবারকে রাতের মধ্যেই তাদের কাছে না গেলে ওই চারজনকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে সবাই যখন তাদের কাছে যান, সন্ত্রাসীরা সবাইকে জিম্মি করে ফেলে।


সন্ত্রাসীদের দাবী, পালিয়ে যাওয়া ত্রিপুরা মেয়েটাকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাদেরকে মুক্তি দেবে না।

নাছেহা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মুনির হায়দার জানান, ‘জিম্মি হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে নাছেহা চা-বাগানের শ্রমিক রয়েছেন ৪৩ জন। জিম্মি হওয়া শ্রমিকদের কয়েকজন গোপনে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উদ্ধার করার আকুতি জানান। তারা সেখানে না খেয়ে মানবেতর জীবন পার করছে। ’

সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হওয়া কয়েকজন তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানিয়েছেন, তারা মূলত রামগড়ের গুজাপাড়া, মরা কয়লা, গরুকাটা, মাঝিরামপাড়ায় ও মানিকছড়ির দুর্ঘম পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি হয়ে আছেন।

এদিকে সরেজমিনে গিয়ে নাছেহা চা-বাগানের সোনারখীল এলাকায় জিম্মি হওয়ার পরিবারগুলোর বসত ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
সেখানে কথা হয় মিরা কর্মকার নামক পঞ্চাশোর্ধ এক চা-শ্রমিকের সাথে। তিনি কান্নাভেজা কন্ঠে বলেন, ‘আমি হিন্দু হলেও আমার মেয়ে শিউলি ত্রিপুরার ছেলেকে বিয়ে করায় সেও স্বামীর সাথে সেখানে জিম্মি। জানি না সে কেমন আছে ?

স্থানীয় সোনারখিল এ.টি.সি সরকারি প্রা.বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম জানান, জিম্মিদের মধ্যে তার বিদ্যালয়ের নয়ন ত্রিপুরা, সুজন ত্রিপুরা, ইমন ত্রিপুরা, মিলন ত্রিপুরা নামক চার শিক্ষার্থী রয়েছে।

এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও থানায় কোন প্রকার অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভূজপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ।

তবে, বুধবার বিষয়টি লোকজনের কাছ থেকে শুনে নাছেহা চা-বাগানের সোনারখীল এলাকা পরিদর্শন করেন বিজিবির স্থানীয় হেঁয়াকো ক্যাম্প কমান্ডার আবুল কশেম। তিনি বাগান কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে আইনি সহায়তা গ্রহন করার পরামর্শ দেন।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031