ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের কাছে আবেদন জানিয়েছেন পতিতাপল্লী থেকে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি এক যুবতী। শরীর বিকিয়ে উপার্জন করা অর্থ নতুন রুপিতে রূপান্তরের জন্য টুইটের মাধ্যমে হাতে লেখা আবেদন পোস্ট করেছেন মোদি ও সুষমার কাছে। তাতে তিনি লিখেছেন, তাকে উদ্ধার করার পর আইনি লড়াই চলার সময় তার উপার্জিত প্রায় ১০ হাজার রুপি ছিল পতিতাপল্লীতে তার মালিকের কাছে। এ জন্য সরকার যখন মুদ্রানীতি সংশোধন করে অর্থাৎ বড় অঙ্কের নোট বাতিল করে তখন বাংলাদেশি ওই যুবতী তার অর্থ পরিবর্তন করাতে পারেননি। তাই এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। এ খবর দিয়েছে ভারতের ট্যাবলয়েড মিড ডে এতে বলা হয়, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ভারতে। তারপর পুনেতে নিয়ে একটি পতিতাপল্লীতে বিক্রি করে দেয়া হয় তাকে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পুনের বুদ্ধেরপীঠ পতিতাপল্লী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। তারপর তাকে নানা লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। এ লড়াই শেষে তিনি দেশে ফিরতে চান। এখন দেশ থেকে তাকে মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন। তিনি দেশে ফিরতে চান। কিন্তু সমস্যা ওই ১০ হাজার রুপি নিয়ে। তিনি অর্থের বিনিময়ে শরীর বিক্রিয়ে দিয়ে এ অর্থ উপার্জন করেছেন। কীভাবে এ অর্থ আয় করেছেন, জমা করেছেন সে বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো টুইটে সবিস্তারে খুলে বলেছেন তিনি। বলেছেন, সরকার যখন বড় অঙ্কের নোট বাতিল করে তখন এ অর্থ তার হাতে ছিল না। ছিল পতিতাপল্লীতে তার মালিকের কাছে। এজন্য তিনি তা পরিবর্তন করতে বা ব্যাংকে জমা দিতে পারেননি। বাংলাদেশি এই যুবতী বলেছেন, ভারতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে তার বিয়ে হয়েছিল। তিন বছরের বিবাহিত জীবন ছিল তার। এ সময়ে তার ওপর নানা নির্যাতন করা হতো। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পিতামাতাকে যাতে দেখাশোনা করতে পারেন এজন্য তিনি বাংলাদেশেই গার্মেন্টে মাসে ৯ হাজার টাকা বেতনের একটি চাকরি নেন। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি। তার এক সহকর্মী তাকে ভারতে ভালো বেতনের কাজের প্রলোভন দেখায়। বলে, যদি তিনি ভারতে যান তাহলে মাসে কম করে হলেও ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। টুইটে ওই বাংলাদেশি যুবতী আরো লিখেছেন, আমার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। সে আমাকে নিয়ে যায় ভাশি’তে। আমাকে ৫০ হাজার রুপিতে বিক্রি করে দেয় এক নেপালি নারীর কাছে। তিনি আমাকে নিয়ে যান ব্যাঙ্গালুরুতে। সেখানে আরেক নারীর হাতে তুলে দেন আমাকে। তারপর থেকেই আমাকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়।
জীবনে এই ঘন অন্ধকারময় সময় কাটে দেড় বছর। তারপর রেসক্যু ফাউন্ডেশন ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তাকে উদ্ধার করে। কিন্তু তার উপার্জিত অর্থ, বাদ বাকি সব রয়ে যায় পতিতালয়ে। তাকে পাঠানো হয় একটি আশ্রয় শিবিরে। ওদিকে তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে পুলিশ। এপ্রিলে বাংলাদেশ সরকার তার বিষয়ে চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স দেয়। একপর্যায়ে তিনি পতিতালয়ে ফেলে আসা তার অর্থের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ফলে সেই অর্থ উদ্ধারে নেমে পড়ে রেসক্যু ফাউন্ডেশন। স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তারা দুই সপ্তাহ আগে ওই যুবতীর সর্দারণিকে খুঁজে পায়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করে সঞ্চিত অর্থ। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। ওই জমানো অর্থের পুরোটাই বাতিল হয়ে যাওয়া নোট। তাই বাংলাদেশি ওই যুবতীর পক্ষে বিভিন্ন শীর্ষ নেতাদের কাছে টুইটে চিঠি পাঠায় রেসক্যু ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশি ওই যুবতীর অর্থ রূপান্তরিত করে নতুন মুদ্রামানে পরিণত করার করুণা প্রার্থনা করেন। এমন পরিণতির শিকার বাংলাদেশি ওই যুবতী বলেছেন, দেশে আমার পরিবার জানে না যে, আমি ভারতে কী কাজ করি। আমি তাদেরকে বলেছি, আমি ভালো বেতনের একটি ভালো কাজ করি। কিন্তু আসলে তো আমি তা করি না। আমি আমার শরীর বিক্রি করি। তা থেকে এ অর্থ উপার্জন করা। অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান আমি। এ কষ্টের অর্থ, একজন নারীর শ্রেষ্ঠসম্পদ সম্ভ্রম বিক্রির এ রুপি এটা তো আমি নষ্ট হতে দিতে পারি না। ভারতে আমি সব হারিয়েছি। আমার আসলে কপাল পোড়া। আমার হাতে যে অর্থ আছে তা রূপান্তর করে যদি আমাকে নতুন মুদ্রা দেয়া হয় তাহলে তাতে আমি একটি নতুন জীবন শুরু করতে পারবো। রেসক্যু ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচালক দিপেশ ট্যাঙ্ক বলেছেন, এ ঘটনাকে একটি স্পেশাল হিসেবে বিবেচনার জন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি সরকারকে। আসলে পাচারের শিকার হন যারা, তাদের বেশির ভাগই অশিক্ষিত। সরকারের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে তারা থাকেন অজ্ঞ। এক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ, এর আগেও কয়েক শত মেয়ের এমন পুরনো মুদ্রা পরিবর্তন করে নতুন মুদ্রা দেয়ায় সহায়তা করেছি আমরা। এভাবে আমরা ৬ লাখ রুপি পরিবর্তন করিয়ে দিয়েছি।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |
