বন্দরনগরী চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগে বদলে যেতে শুরু করেছে ।
দেশের একমাত্র বন্দর নগরী চট্টগ্রাম যেখানে এখন বিজ্ঞাপনের বড় বড় বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড নেই। প্রায় এক বছর আগেই চট্টগ্রাম নগরীকে বিলবোর্ডমুক্ত করে সবুজের মুক্ত নগরীতে পরিণত করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রাম মহনগরীতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে আরো প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প।
ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম একদিন বিশ্বের উন্নত শহরের আদলে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আমি চট্টগ্রাম নগরীকে নিয়ে যে গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটির স্বপ্ন দেখছি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছায় এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীকে একটি যানজট, জলজটমুক্ত ক্লিন এবং গ্রিন সিটিতে রূপ দিতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের চট্টগ্রাম শহরের মতো সুন্দর শহর বাংলাদেশে আর নেই। একদিকে সমুদ্র, পাহাড়, কর্ণফুলী নদী আর শহর ঘিরে তিনপাশে সবুজ। এমন একটি সুন্দর শহরের সবুজ ঢাকা পড়েছিলো বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে। নানা প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও নগরী থেকে সব বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে নগরীর সবুজ উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এর ফলে সড়কে যে দিকেই যাওয়া হউক সবুজের স্নিগ্ধতা মুগ্ধ করে নগরবাসীকে।
মেয়র বলেন, এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সিটি করপোরেশন। নগরীর উন্মুক্ত স্থান থেকে ডাস্টবিন সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নগরীতে আরো সবুজায়ন করে নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য আরো বৃদ্ধি করার নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামের অন্যতম সমস্যা অল্প বৃষ্টিতে জলজট। এই জলজট নিরসনের বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশন অন্যান্য সংস্থার সহায়তা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী সত্যিকার অর্থেই একটি গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটিতে রূপ পাবে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম জানান, চট্টগ্রাম মহানগরী এখন উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বড় মাইলফলক। নগরীতে বড় বড় মেগা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই নগরীর সবচেয়ে দীর্ঘ আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার চালু হতে যাচ্ছে। এই ফ্লাইওভার চালু হলে নগরী যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে আরো প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে বলে সিডিএ চেয়ারম্যান জানান।
