চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্মাঞ্চল সাগরে গভীর নিম্মচাপের ফলে রোববার (১১ জুন) দিবাগত রাত থেকে টানা বর্ষণে ফের তলিয়ে গেছে । জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে আগ্রবাদ, হালিশহর, আগ্রাবাদ এক্সেসরোড, ছোটপুল, বহদ্দারহাট, চকবাজা, শুলকবহর, বাকলিয়া এলাকায়। এতে নগর জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

সোমবার (১২ জুন) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রবন্দর গুলোতে ইতোমধ্যে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

সাগরে মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার বিকাল থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও রাত থেকে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা সোমবার ভোরের দিকেই তলিয়ে যায়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বাতাসের পাশাপাশি বৃষ্টিপাতও অব্যাহত থাকবে।’

সরেজমিন দেখা যায়, জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেইট এলাকার পানি সকালে অনেকটা নামলেও আগ্রাবাদ, বাদুরতলা, চকবাজারসহ নিচু এলাকায় পানি থেকে যায়। পানিতে বিভিন্ন সড়ক, গলিসহ পাড়া মহল্লার বিভিন্ন ভবনের নিচতলার বাসা ডুবে যায়।

এতে চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ সকাল থেকেই চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল কমে যায়। সড়কে জমে থাকা পানিতে বাস-অটোরিকশাসহ যানবাহন আটকে গিয়ে ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করে।

আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন হীরা বলেন, ‘বৃষ্টির পানিতে নিচতলা ডুবে গেছে। কয়েকদিন আগেও বৃষ্টিতে পানিবন্দী ছিলাম। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা আসহাব উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি ওঠে। এবং কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকা সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।’

এদিকে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। মৌসুমি নিম্নচাপের ফলে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে সাগর উত্তাল ও জোয়ার আসায় এবং মহেশখালের অস্থায়ী বাঁধের কারণে অন্তত পাঁচ লাখ লোক জলাবদ্ধতার শিকার হন।

এক্সেস রোডে কার্যত যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রিকশা ও ভ্যানগাড়িই ছিল এলাকাবাসীর ভরসা। সড়কের ওপর দেখা গেছে বেশ কয়েকটি নৌকা-সাম্পানের চলাচলও।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031