হামলার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে সাইবার অপরাধীরা।র‍্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে ফের সাইবার হামলা সংঘটিত হয়েছে।  রাশিয়া ও ইউক্রেন গত মঙ্গলবারের এ হামলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। একই দিন রাত থেকে ভারতের মুম্বাইয়ে দেশটির বৃহত্তম জওহরলাল নেহরু বন্দরের তিনটি টার্মিনালের একটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশে একযোগে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হামলা চালিয়ে গত মে মাসে ১৫০টির বেশি দেশের তিন লাখের বেশি কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নেয় সাইবার অপরাধীরা। সাইবার গবেষকরা বলছেন, গত মঙ্গলবারের হামলার সঙ্গে মে মাসে পরিচালিত ওয়ানাক্রাই হামলার যোগসূত্র রয়েছে। খবর রয়টার্স।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, সাইবার হামলা চালাতে এবার যে ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, তাকে পেটয়্যা বা গোল্ডেন আই বলা হচ্ছে। এটি থামানোর মতো উপায় এখনো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। কাজেই ওয়ানাক্রাই হামলার চেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পেটয়্যা বা গোল্ডেন আই ব্যবহার করে আরো সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

র‍্যানসমওয়্যার হামলায় রাশিয়ার সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রধান বিমানবন্দর, বিভিন্ন ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি ও খ্যাতনামা ডেনিশ শিপিং কোম্পানি এপি মোলার-মিয়ারস্ক নেটওয়ার্ক আক্রান্ত হয়েছে। ভারতের জওহরলাল নেহরু বন্দরের আক্রান্ত টর্মিনালের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে এপি মোলার-মিয়ারস্ক। প্রতিষ্ঠানটির লস অ্যাঞ্জেলেস বিভাগও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুত্ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানসহ ছোট বড় মিলে আরো কিছু কোম্পানি সাইবার হামলায় আক্রান্ত হয়েছে। সাইবার হামলার কারণে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপনী সংস্থা ডব্লিউপিপির তথ্যপ্রযুক্তি সিস্টেম অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

রুশ সাইবার নিরাপত্তা কোম্পানি ক্যাসপারস্কি ল্যাবের তথ্যমতে, পোল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এ র‍্যানসমওয়্যার হামলা শনাক্ত করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ হাতিয়ে নিতে র‍্যানসমওয়্যার হামলা ব্যাপক পরিসরে বাড়ছে। গত মঙ্গলবারের হামলাটিও এ ধরনের চাঁদাবাজির জন্যই পরিচালিত হয়েছে। এক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয় হলো, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এ ধরনের হামলা ঠেকাতে পারছে না। সাইবার অপরাধীরা দিন দিন আরো আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। তারা এরই মধ্যে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। হ্যাকাররা এখন যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, করপোরেট ব্যবসা ও সরকারি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বিকলাঙ্গ করে দিতে সক্ষম— তার প্রমাণ সাম্প্রতিক কয়েকটি র‍্যানসমওয়্যার হামলা।

রয়টার্সের তথ্যমতে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেশকিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গতকাল কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানে এ হামলার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ হামলার প্রভাব গত মে মাসের ওয়ানাক্রাই হামলার চেয়ে কম পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, হামলায় যে ভাইরাস ব্যবহার হয়েছে, তাতে ‘ইটারনাল ব্লু’ নামে প্রোগ্রাম করা এক ধরনের পরিচিত কোড দেখা গেছে। সাইবার দুনিয়ায় বিশ্বাস করা হয়, এ কোড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। যা গত মাসে ওয়ানাক্রাই হামলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিকিউর আইডিয়াসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন জনসন বলেন, সাইবার হামলা খুব সাধারণভাবেই আমাদের ধ্বংস করে দিতে পারে। বিভিন্ন দেশের স্থানীয় ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাইবার হামলা ঠেকাতে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, সেটা নিচ্ছে না।

র‍্যানসমওয়্যার ভাইরাসটি উইন্ডোজ চালিত কম্পিউটার সিস্টেমে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। শুরুতে কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে সংরক্ষিত তথ্য ব্লক করে দেয়া হয়। হ্যাকারদের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে তথ্য ফেরত পেতে বিটকয়েনে ৩০০ ডলার দাবি করা হয়। গত মঙ্গলবারের হামলায় আক্রান্ত অন্তত ৩০টি প্রতিষ্ঠান হ্যাকারদের দাবি অনুযায়ী মুক্তিপণ দিয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ ফেরত নিতে সমর্থ হয়েছে।

মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্রের তথ্যমতে, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের একটি নিরাপত্তা ত্রুটি বিষয়ে গত মার্চে তারা প্যাচ সরবরাহ করেছে। উইন্ডোজ ব্যবহারকারী যারা সে সময় নিরাপত্তা হালনাগাদ গ্রহণ করেননি, তারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। গ্রাহক নিরাপত্তার স্বার্থে তারা কাজ করছেন। গত মঙ্গলবারের র‍্যানসমওয়্যার হামলা মাইক্রোসফট অ্যান্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারও শনাক্ত করতে সমর্থ হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাসটির দ্বারা ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে সমর্থ হয়েছে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930