নগরীর স্টেশন রোডে গড়ে উঠেছে চোরাই পণ্যের বিশাল মার্কেট। চট্টগ্রামে ছিনতাইচক্রের চোরাই পণ্য বিক্রী হচ্ছে অবাধে। অথচ পুলিশে কাছে অধরাই রয়ে গেছে বেশিরভাগ ছিনতাইকারী।

ছিনতাইকারীরা কখনও মোটরসাইকেল, কখনো সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ছিনতাই করে। কিছু বোঝার আগেই ব্যাগভর্তি টাকা ও মোবাইল, ল্যাপটপ ছিনিয়ে নিয়ে চ¤পট দেয়। এমনকি ছিনতাইকারীর আঘাতে ঝরছে পথচারীর প্রাণও।

পুলিশের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মহানগরে ছিনতাইয়ের ঘটনায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৬৪টি। চলতি মাসে ২৭ জুন পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে। গত এক মাসে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

সর্বশেষ গত ২৭ জুন মঙ্গলবার দিনগত রাত ১২টার দিকে নগরীর ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন চসিকের সাবেক কাউন্সিলর এডভোকেট রেহানা বেগম রানু। তিনি ব্যাগে থাকা ৫১ হাজার টাকা খুঁইয়েছেন। এর আগে শনিবার সকাল ৯টায় কাজীর দেউড়ি হল২৪ এর সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন ছাত্রলীগ কর্মী এস এম সাদমান শাহরিয়ার।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার হাসান শওকত আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা না করায় ছিনতাইয়ের সব হিসাব পুলিশের নথিতে নেই। তবে ছিনতাই কমাতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। গত এক মাসে কমপক্ষে ২০ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হয়েছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এক এলাকায় বসবাস করে অন্য এলাকায় অপকর্ম করে অপরাধীরা। এ অবস্থায় অপরাধ দমনে থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের সমন্বয় কম। সমন্বয়ের বদলে রেষারেষি চলে। এতে অপরাধীরা সুবিধা পাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের গ্রেপ্তার-উদ্ধার অভিযানে সাফল্য আসলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরের প্রকাশ্যে বিক্রয় হচ্ছে ছিনতাইয়ের মাল। বিশেষ করে ছিনতাইয়ের মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে পসরা খুলে ছিনতাইচক্রের হোতারা। নগরীর স্টেশন রোডে গড়ে উঠেছে ছিনতাইচক্রের চোরাই পণ্যের এই মার্কেট।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর পুরাতন রেল স্টেশন থেকে নতুন রেল স্টেশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত ফুটপাতে বেচা-কেনা চলে ছিনতাইয়ের পণ্য। মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে ইলেক্ট্রনিকসের নানা জিনিসপত্র বিক্রি হচ্ছে একেবারে কম দামে। সেখানে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যায় আইফোন! অ্যান্ড্রয়েড মিলে দুই থেকে তিন হাজারের মধ্যেও!

এসব মালামাল কোথা থেকে আসে? জানতে চাইলে ছিনতাইচক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ছিনতাই হওয়া মালামাল জমা হয় এ মার্কেটে। ফলে কম দামে বিক্রয় করে দেওয়া হয়। এতে কোনো ঝামেলা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো দামি কোনো জিনিস চুরি-ছিনতাই হলে স্টেশন রোডে এসে খোঁজ নেয়। পাওয়া গেলে ঝামেলা হয়। মাঝে-মধ্যে পুলিশও ঝামেলা করে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার হাসান শওকত আলী বলেন, স্টেশন রোড়ের চোরাই মার্কেটে মালামাল বিক্রি করতে যাওয়ার পথে ২২ জুন ধরা পড়ে নাগর পন্ডিত নামের এক ছিনতাইকারী। চোরাই পণ্যের দোকানগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ গত ৪ জানুয়ারি নগরীর স্টেশন রোডে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ১০৫টি চোরাই মোবাইলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে অজ্ঞাত কারণে চোরাই মার্কেটের দোকানগুলো পুরোপুরি উচ্ছেদ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চোরাই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অপরাধ কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ছিনতাই-চুরির কাজে ভাসমান মানুষদের মদদ দিয়ে আসছেন তারা। স্টেশন রোড এলাকায় ভাসমান শিশু ও লোকজনদের টার্গেট করে প্রথমে মাদকে আসক্ত করানো হয়। এরপর মাদকের টাকা সংগ্রহে বাধ্য হয়ে ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতিতে জড়িয়ে পড়ে।

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ধরা পড়া বেশ কয়েকজনকে জেরা করে ছিনতাইয়ের পেছনে মাদকের বিষয়টিই উঠে এসেছে। মাদক কিনতে টাকা জোগাড়ের জন্য বেশিরভাগ ছিনতাই হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, ছিনতাইপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031