যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ, প্রতিবাদ এড়াতে বৃটেনে ঝটিকা সফরে আসতে পারেন । তার এ সফর এ মাসেই হতে পারে। এ বিষয়ে বৃটেন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সফরের মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কবে কোন তারিখে তিনি আসছেন তা বিক্ষোভ, প্রতিবাদের আশঙ্কায় গোপন রাখা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। আগামী ১৪ই জুলাই ফ্রান্সে যাওয়ার কথা ডনাল্ড ট্রাম্পের। ওইদিন সেখানে তিনি বাস্তিল দিবস উদযাপন করবেন। সেই সফরের পথে তিনি বৃটেনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করতে পারেন। এ জন্য বৃটিশ সরকারের কর্মকর্তাদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। দ্য সানডে টাইমসকে হোয়াইট হাউজের এক সূত্র বলেছেন, এ মাসে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তখনই তিনি বৃটেন সফরে যাওয়ার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ আয়োজন দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হতে পারে। বড় ধরনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ যাতে না হয় সেজন্য সফরের কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা আগে বিষয়টি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হবে। তবে এ বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ওয়েস্টমিনস্টারকে কিছু জানানো হয় নি। উল্লেখ্য, জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৃটেন সফর বাতিল করা হয়। তখন ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ছাড়া রাণীর ভাষণে তার সম্পর্কে কোনো কথা বলা হয় নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে মুসলিম, অভিবাসী ইস্যুতে আগ্রাসী মন্তব্য করার কারণে ট্রাম্পকে বৃটেনে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়। এমন দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তাতে স্বাক্ষর করেন কয়েক লাখ মানুষ। ট্রাম্পকে বৃটেনে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বৃটিশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক হয়। তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ঝারেন এমপিরা। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া সেই বিতর্ক শেষ হয়। ওদিকে ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে। সেখানে তিনি নমনীয় অবস্থান নেয়ায় তার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা হয় বৃটেনে। তবে মে মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ও যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলায়েকের সঙ্গে ট্রাম্পের মিটিংয়ের পর তার সঙ্গে আর সাক্ষাত হয় নি তেরেসা মে’র। উল্লেখ্য, অভিযোগ করা হয় ওই মিটিংয়ে ইসরাইলের গোয়েন্দাবৃত্তির তথ্য ফাঁস করে দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অব্যাহতভাবে কাজ করে যেতে চাই। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে যেতে চাই, যেমনটা আমরা সারাবিশ্বে অন্যদের সঙ্গে করি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের সফরের সময় স্কটল্যান্ডেও যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা নিয়েও বিতর্ক আছে। সেখানকার আবারদিনশায়ারে মেনিই’তে একটি গলফ রিসোর্ট খুলেছেন ট্রাম্প ২০১২ সালে। এ নিয়ে তাকে স্থানীয় অধিবাসী ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। সম্প্রতি তিনি স্কটল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন। তখন স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা মেক্সিকোর পতাকা হাতে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। তারা তাকে ‘ধর্ষক’ ও ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে অভিহিত করেছেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031